‘মামদানির শাসন’ শুরুর আগেই
নিউ ইয়র্ক ছাড়ছেন উদ্যোক্তারা,নিউ হ্যামশায়ারের গভর্নরের আমন্ত্রণ
মিনারা হেলেন: ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে নাটকীয় জয় পাওয়ার পর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ম্যানহাটনের মিডটাউন জুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছে একটি বড় ভ্যান, যার চারপাশে লাগানো ডিজিটাল বিলবোর্ডে ভেসে উঠছিল নানা বার্তা।
বার্তাগুলোর একটিতে লেখা ছিল 'নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়ীরা, মামদানি যদি আপনাকে হতাশ করে থাকেন, তাহলে চলে আসুন নিউ হ্যামশায়ারে এখানে নেই কমিউনিজম, নেই অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, আর করও অনেক কম।”
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন নিউ হ্যামশায়ারের রিপাবলিকান গভর্নর কেলি আয়োত। তিনি ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, “যে কেউ মামদানির শাসন শুরু হওয়ার আগে নিউ ইয়র্ক ছাড়তে চান, তাদের জন্য নিউ হ্যামশায়ারে অনেক কিছুই আছে, আমরা দেশের সবচেয়ে নিরাপদ রাজ্য, অর্থনৈতিক সুযোগে সেরা, আর করহারও সবচেয়ে কম। আপনি ব্যবসা পরিচালনা করুন বা কেবল নিজের উপার্জনের বেশি অংশ রাখতে চান— চলে আসুন গ্রানাইট স্টেটে, আমরা আপনাকে স্বাগত জানাই।
মামদানি, যিনি ‘বিনামূল্যে বাসযাত্রা’ ও ‘বিনামূল্যে শিশু যত্ন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কর বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন, মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
ট্রাকের এক পাশে লেখা ছিল 'নিউ হ্যামশায়ারে আসুন, আমরা আপনার ব্যবসা স্থানান্তরে সহায়তা করব, আর আপনি রাখতে পারবেন নিজের কষ্টার্জিত টাকার বড় অংশ।
নবনির্বাচিত মেয়র মামদানি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে সমাজতান্ত্রিক নীতি বাস্তবায়ন করবেন। তাঁর প্রস্তাবিত করবৃদ্ধি ইতোমধ্যেই অনেক উদ্যোক্তা ও সম্ভাব্য বাসিন্দাকে নিরুৎসাহিত করেছে, ফলে কেউ কেউ শহর ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।
মায়ামি-ভিত্তিক বিএইচ গ্রুপের সিইও আইজ্যাক টোলেডানো ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, গত কয়েক মাসেই তাদের সংস্থা নিউইয়র্কের ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের চুক্তি সম্পন্ন করেছে যা আগের বছরের দ্বিগুণ।
রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষক মিচ রোশেল বলেন, “কোভিড মহামারির সময় প্রথম যে দফায় নিউইয়র্ক থেকে লোকজন সরে গিয়েছিল, তা শুধু করের কারণে নয় বরং স্কুলে প্রবেশাধিকার ও স্বাভাবিক জীবনের খোঁজেই। তবে এখন মামদানি যুগে, দ্বিতীয় দফার ‘এক্সোডাস’ হবে এমন বাসিন্দাদের নেতৃত্বে, যারা ইতোমধ্যেই যথেষ্ট কর দিচ্ছেন কিন্তু ভবিষ্যতের সামাজিক ব্যয়ভার আর বহন করতে চান না।”
নিউ ইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে শহরের জনসংখ্যা ৫.৩% কমে গেছে যা লং বিচ, ক্যালিফোর্নিয়ার পুরো জনসংখ্যারও বেশি।
রোশেল আরও বলেন, 'এই স্থানত্যাগ হয়তো সঙ্গে সঙ্গে ঘটবে না, পরিবারের ক্ষেত্রে তা স্কুলবর্ষের সঙ্গে মিলিয়ে ঘটতে পারে। তবে জননিরাপত্তায় কোনো অবনতি বা ধনীদের ওপর বড় কর বৃদ্ধি হলে এই স্রোত অনেক দ্রুত বেড়ে যাবে।' জোহরান মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি