৪ নভেম্বর ২০২৬

মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা-মেঘনায় কঠোর নজরদারি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা-মেঘনায় কঠোর নজরদারি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স। সরকারি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদীতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার পাশাপাশি ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পদ্মা-মেঘনায় নৌপথসভা করে জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত টাস্কফোর্স। নদীতে অবস্থানরত জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নিষেধাজ্ঞার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বিতরণ করা হয় সচেতনতামূলক লিফলেট।

নৌপথসভায় চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ, হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রশীদ এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নদীতে থাকা জেলেদের জানানো হয়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এ সময়ে নদীতে মাছ ধরা ও ইলিশ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পাশাপাশি আহরিত ইলিশের পরিবহন, মজুত ও বিক্রয়ও নিষিদ্ধ।

কর্মকর্তারা বলেন, নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য শুধু নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখা নয়; বরং মা ইলিশকে নিরাপদে প্রজননের সুযোগ দিয়ে ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার প্রতিটি ধাপে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলে ও সংশ্লিষ্টদের সচেতন করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে কিংবা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে জেলেদের প্রতি নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ কেনাবেচা বা মজুত না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে নদীতে ইলিশের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ ইলিশ সংরক্ষণে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ইলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচরণক্ষেত্র হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে এ অঞ্চলে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত নজরদারি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সচেতনতা, নদীতে টহল ও কঠোর আইন প্রয়োগ—এই তিন স্তরের পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাইছে জেলা টাস্কফোর্স।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি