৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কমেছে মূল্যস্ফীতি, বাড়ছে না মজুরি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ পিএম
কমেছে মূল্যস্ফীতি, বাড়ছে না মজুরি


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: আগের মাসের ধারাবাহিকতায় অগাস্টেও মূল্যস্ফীতির হার কমে হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ; যা ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

চলতি অর্থবছরের আগের মাস জুলাইয়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে এ হার ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। এরপর থেকে আবার দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে।


সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে।

এতে দেখা যায়, অগাস্টে খাদ্যে কমলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ; জুলাইয়ে যা হয়েছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।

অপরদিকে অগাস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ; জুনে যা ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে অগাস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির মানে হচ্ছে–আগের বছরের অগাস্টে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা এখন কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা।

১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের ধাক্কায় দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছিল। ওই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরের কয়েক মাস সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করছিল। তারমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে রাখার লক্ষ্য ধরেছিল অন্তবর্তী সরকার। তবে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ গড় মূল্যস্ফীতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ওই আর্থিক বছর।

এদিকে অগাস্ট শেষে (২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অগাস্ট) দেশে গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন মাস পর গত জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নামে। গত এপ্রিলে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল দেশে। মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছিল। জুনে তা সামান্য কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নামে।

জুলাইয়ে তা থেকে আরও দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৯ শতাংশের নিচে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছিল; অগাস্টে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে।

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল দেশে। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে ওঠে। মার্চে অবশ্য কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমেছিল। এরপর টানা তিন মাস ৯ শতাংশের ওপরে থাকার পর জুলাই মাসে এর নিচে নেমেছিল।

গ্রামের পাশাপাশি শহরেও কমেছে

অগাস্টে শহরের পাশাপাশি গ্রামেও কমেছে মূল্যস্ফীতি। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে এ মাসে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

আগের মাস জুলাইয়ে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। যার মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ; খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

অন্যদিকে অগাস্টে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ; খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

জুলাইয়ে শহর এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। যার মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ২১ শতাংশ; খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

মজুরি সূচকও কমেছে

মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস অগাস্টে মজুরি সূচকও কমেছে। এই জাতীয় গড় মজুরির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আগের মাস জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

এর মানে হল- অগাস্টেও মূল্যস্ফীতি মজুরি হারের চেয়ে বেশিই রয়ে গেছে।

মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়।

গ্রাম-শহর নির্বিশেষে ১৪৫টি নিম্ন দক্ষতার পেশার মজুরির ওপর হিসাব করে থাকে বিবিএস। মজুরিনির্ভর বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি পড়ে।

বিবিএস বলছে, দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। দেশে এরকম কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ছয় কোটি মতো।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি