ফোবানা'র নিমন্ত্রণকর্তা হতে মরিয়া ওয়াশিংটনের প্রতারকচক্র
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
বিশেষ প্রতিনিধি: আগামী ২০২১ সালে ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনের নিমন্ত্রণকর্তা হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বৃহত্তর ওয়াশিংট্ন ডিসি এলাকার একটি শক্তিশালী প্রতারকচক্র। দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি ফোবানা উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রিয় এ মিলনমেলা 'ফোবানা সম্মেলন'এর নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। অপসংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকেও ভূলন্ঠিত করছেন এ চক্রটি।
উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা 'ফোবানা সম্মেলন' এখন চরম হুমকির মুখে। একদিকে অভ্যন্তরীণ স্বার্থানেষী মহল ও অন্যদিকে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এই দুই শ্রেণীর নীলনকশায় ফোবানা সম্মেলন আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
৩০শে আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৩দিন ব্যাপী ৩৩তম ফোবানা সম্মেলন উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে যখন উৎসব মুখর থাকার কথা ঠিক সেই সময়ে তারা নিজেরাই দ্বিধাবিভক্ত।তাই এবারের ফোবানা সম্মেলনের সফলতা ও সার্থকতা নিয়ে আনেকেই আশঙ্কাগ্রস্থ।
কারণ একদিকে মূল ফোবানা সমর্থিত ‘ড্রামা সার্কেল, নিউ ইয়র্ক’ ৩৩তম ফোবানা সম্মেলন আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সপন্ন করেছে। অন্যদিকে ফোবানার মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বার্থনেষী একটি সমর্থনে বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি নামে একটি তথাকথিত সংগঠন নিউ ইয়র্ক শহরে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে পৃথক একটি ফোবানা সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। আর ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিবেশ বিদ্যামান সংকটকে ব্যবহার করে স্বার্থনেষী একটি মহল তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন
এদিকে, যখন সবাই মূলত ব্যস্ত ৩৩তম ফোবানা সম্মেলনের সফলতা নিশ্চিত করতে এবং উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী সংগঠনগুলোকে একতাবদ্ধ করতে। তখন এই স্বার্থান্বেষী মহলটি কার্যত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের হাতে পরবর্তী ফোবানা সম্মেলনকে তুলে দিতে ব্যস্ত। তাদের নীল নকশা অনুযায়ী ২০২০ সালের ফোবানা সম্মেলন এর আয়োজন করার অনুমতি দেয়া হবে বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে। ওয়াশিংটন ডিসির এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রকে যার কেন্দ্র রয়েছে ‘আমেরিকান বাংলাদেশ বিসনেস অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি বাণিজ্যিক সংগঠন। যার নতুন নাম হয়েছে বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি। এই সংগঠনটি পূর্বেও স্বার্থান্বেষী মহলের সহযোগিতায় ২০০৯ ও ২০১১সালে দুইবার ফোবানা সম্মেলন আয়োজন করে যা ভুয়া ফোবানা সম্মেলন হিসাবে বহুল পরিচিত রয়েছে।
ফোবানা সম্মেলন এর মত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন এ স্বার্থান্বেষী কিছু ব্যাক্তি ও প্রতারকচক্র সক্রিয় থাকবে এটাই স্বাভাবিক, তবে সম্মেলনটিই যখন কুক্ষিগত হয় তখন আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি নামক সংগঠনটির পরিচালক অথবা মূলব্যাক্তি স্টল বরাদ্দ, বিজ্ঞাপনের অঙ্গীকার, ব্যাবসায়িক অঙ্গীকার, ভুয়া কাগজে আদম আমদানি এমন কোন কর্মকান্ড নেই যা ২০০৯ ও ২০১১ সালের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তিনি করেননি।
শুধুমাত্র সম্মেলনের নামে এবং বিভিন্ন অজুহাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের থেকে এই প্রতারকচক্রটি বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে প্রবাসী রেজাউল করিমে কাছ থেকে ১০ হাজার, গোলাম ফরিদ আক্তারের কাছ থেকে ১২ হাজার, রফিকুল ইসলামে কাছ থেকে ৭ হাজার, জাকির হোসেন কাছ থেকে ১৫ হাজার, রুমনে কাছ থেকে ২৩ হাজার, শামীম আলী কাছ থেকে ৩৯ হাজার ও মাইনুল ইসলাম তাপসের কাছ থেকে ৭ হাজার মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে।
এমনকি ফোবানা সম্মেলন শেষ করে ভেনু ভাড়া না দিয়ে শুধুমাত্র ফোবানা সম্মেলন নয় বরং পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির মুখে চুনকালি লেপ্টে দিয়েছেন এই প্রতারকরা। পরবর্তীতে ফেডারেল কোর্টে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে পিটিশন দাখিল করেছেন। আলেক্সান্দ্রিয়া ফেডারেল কোর্ট তাকে এবং তার স্ত্রীকে দেউলিয়া হিসাবে রায় দিয়েছেন।
ওই ব্যক্তির প্রতারণা শুধু ফোবানা সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতারণাই তার পেশা। কখনো সে ব্যাবসার কথা বলে প্রতারণা করেন, কখনও রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে কখনও বা সমাজ সেবা বা ধর্মের নামে প্রতারণা করেন বলে ভুক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
এ প্রতারক্রটি উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যবসার কথা বলে ও ব্যবসায় অংশীদারিত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার ফাঁদে ফেলেছে। যার মধ্যে নাইমা রহমান কাছ থেকে ২৬ হাজার, পিপলস এন্ড টেক এর আবু হানিপের কাছ থেকে ১৮ হাজার, মেজর আলমের কাছ থেকে ২০ হাজার, ড. রাজ্জাকে কাছ থেকে ৮০ হাজার মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তার প্রতারণা এ তালিকায় আছে নাম না জানা আরো অসংখ্য বাংলাদেশি। রাজনৈতিক প্রভাবের ভয়ে চুপ থাকলেও পরবর্তীতে অনেকেই তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের ও প্রতারণার বর্ণনা দিয়েছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক হল ড. রাজ্জাক এর ঘটনা । তার স্ত্রী ড. নাজমা জাহান থেকে জানা যায়, ড. রাজ্জাক এই প্রতারককে কয়েক দফায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দেয় ব্যাবসায়িক কারণে। পরবর্তীতে যখন তিনি বুঝতে পারেন তিনি এক সংবদ্ধ প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন তখন তার আর করার কিছু ছিল না। ড. রাজ্জাক মানসিক ভাবে প্রচন্ডভাবে ভেঙে পড়েন এবং এই মানসিক যন্ত্রনায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
এই প্রতারক্রটি এতটাই চতুর যে তার খপ্পরে যে পড়ে সর্বশান্ত না হওয়া পর্যন্ত তার জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না অনেকেই। তিনি মসজিদ উন্নয়ন তহবিল এ অনুদান এর কথা বলে আলেক্সান্দ্রিয়া বাংলাদেশি কমিউনিটির এর মসজিদ উন্নয়ন তহবিল থেকে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও বাংলাদেশে অনেক দরিদ্র পরিবারকে উত্তর আমেরিকায় এনে কাজ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিবারগুলোকে সর্বশান্ত করছেন।
যারা ফোবানার সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত তাদের সকলেই কমবেশি জানেন এ প্রতারকের কূ-কীর্তির কথা। কিন্তু এতকিছু জেনেও ফোবানার অভ্যন্তরিণ একটি স্বার্থান্বেষী মহল শুধুমাত্র তাদের ব্যাক্তিগত লাভের জন্য ফোবানা সম্মেলনকে আবার এই প্রতারকের হাতে তুলে দেবার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এ প্রতারক তার কূ-কীর্তির আড়াল করতে তার মতো আরো কয়েকটি পকেট সংগঠনকে নিয়ে একটি আয়োজক গোষ্ঠি তৈরি করেছেন। আর শিকড়বিহীন ব্যাঙের ছাতার মত এ সংগঠনগুলো কখনো সামাজিক আন্দোলন ও সমাজমুলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল না। তাই তাদের থেকে প্রবাসীদের আরো সজাগ থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতম মহল।
বিসি।সিএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তর্জাতিক
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
১৫ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি