৭ মে ২০২৬

ছাত্রকে বলাৎকারের দায়ে মাদরাসা শিক্ষকের ফাঁসির রায়

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
ছাত্রকে বলাৎকারের দায়ে মাদরাসা শিক্ষকের ফাঁসির রায়
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার উপজেলার মহত পাড়া এলাকার আহমদিয়া আজিজুল উলুম মাদরাসার চার ছাত্রকে ধর্ষণের দায়ে মাদরাসা শিক্ষককে ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে একজন ‘সিরিয়াল ধর্ষক’ বলে আখ্যায়িত করেন আদালত। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ার) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক সিনিয়র জেলা জজ জয়নাল আবেদিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত ওই শিক্ষকের নাম নাছির উদ্দিন (৩৫)। তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া থানার কৈয়ারবিল ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট বেউলা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শান্তিনিকেতন মহত পাড়া এলাকার আহমদিয়া আজিজুল উলুম মাদরাসার হোস্টেল সুপার ছিলেন। রায়ে আদালত বলেছেন, আসামি একজন সিরিয়াল রেপিস্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। ভিকটিমদেরকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানের পরিবর্তে আসামি নিজেই ধর্ষণের মত ঘৃণিত ও জঘন্য অপরাধে জড়িয়েছেন। দিনের পর দিন ভিকটিমদেরকে ভয়ভীতির মধ্যে রেখে জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন, যা তার স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে পরিলক্ষিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জিকো বড়ুয়া বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত ওই মাদরাসা শিক্ষক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর কড়া নিরাপত্তায় তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর ১০ বছরের এক ছাত্র মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাসায় চলে আসে। পালিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, শিক্ষক নাছির উদ্দিন তাকেসহ চারজনকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে দুমাস ধরে প্রতিরাতে ধর্ষণ করত। ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর রাত ১টার দিকে ওই শিশুকে ঘুম থেকে তুলে নাছির উদ্দিন তার নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এমনকি ধর্ষণের সময় শিশুর কান্নাকাটির শব্দ যাতে বাইরে বের না হয় সেজন্য শক্ত করে মুখ চেপে রাখা হতো। ঘটনার আটদিন পর ২০ অক্টোবর শিশুটির জবানবন্দির ভিত্তিতে ভুক্তভোগী চার ছাত্রের অভিভাবকরা থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন নাছির। ২০২১ সালের ৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে আদালত তার বিচার শুরুর আদেশ দেয়। বিচার চলাকালে মোট ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রোববার নাছিরকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিল।   বিপি/টিআই  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি