ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাগুলির সন্দেহভাজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে
মিনারা হেলেন: ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাগুলির ঘটনার জন্য যাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তাকে বৃহস্পতিবার নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি স্টোরেজ সুবিধায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ খবর জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, ৪৮ বছর বয়সী ক্লদিও নেভেস ভ্যালেন্তে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নিজের গুলিতে (আত্মঘাতী গুলিবিদ্ধ) মারা গেছেন। তিনি পর্তুগালের নাগরিক।
তদন্তকারীরা এখন বিশ্বাস করছেন, ভ্যালেন্তে ব্রাউনে হামলার দুই দিন পর গুলিতে নিহত হওয়া ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) -এর এক অধ্যাপকের হত্যার সঙ্গেও জড়িত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এক কর্মকর্তা এপি-কে এ তথ্য জানান। এর আগে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) বলেছিল, দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই। এম আইটি-এর অধ্যাপক নুনো এফ. জি. লোরেইরো মঙ্গলবার মারা যান।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে প্রভিডেন্স পুলিশের প্রধান কর্নেল অস্কার পেরেজ সাংবাদিকদের বলেন, ভ্যালেন্তে আজ রাতে নিজের জীবন শেষ করেছেন।
কর্মকর্তারা সিএনএন-কে জানান, ভ্যালেন্তের কাছে একটি স্যাটচেল, দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের সেলেমে সংঘটিত অপরাধস্থলের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, এক ব্যক্তি সন্দেহভাজনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য নিয়ে সামনে আসার পরই তারা তার খোঁজ পান।
রোড আইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেল পিটার নেরোনহা এনবিসি নিউজকে বলেন, ওই ব্যক্তি প্রভিডেন্স পুলিশের দুই কর্মকর্তার কাছে এসে জানান যে তার কাছে এমন তথ্য আছে, যা এই মামলায় সহায়ক হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তিনি পুরো মামলাটাই খুলে দিয়েছেন। নেরোনহার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি আমাদের গাড়ির সূত্রে পৌঁছাতে সাহায্য করেন, সেখান থেকে নাম পাওয়া যায়, এরপর গাড়িভাড়া নেওয়ার সময় তোলা ছবির সঙ্গে প্রভিডেন্সে হামলাকারীর পোশাক ও স্যাটচেলের মিল পাওয়া যায়।
এফবিআই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করার তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণাও করেছিল।
সন্দেহভাজন সম্পর্কে বিস্তারিত আসে প্রভিডেন্স পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (পিপিডি) এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করার পর। ছবিতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি হুডির ওপর গাঢ় জ্যাকেট ও গাঢ় জুতা পরেছিলেন এবং কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ‘আগ্রহের ব্যক্তি’র আশপাশে ছিলেন।
বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ না দেওয়ার অভিযোগে সমালোচনা করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনটি পুরোনো হওয়ায় ভিডিও নজরদারি সীমিত।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে এত কম নিরাপত্তা ক্যামেরা কেন? আধুনিক যুগে এর কোনো অজুহাত হতে পারে না।
তবে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ব্রায়ান ক্লার্ক দ্য হিল-কে বলেন, ক্যাম্পাস নিরাপদ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিস্তৃত নিরাপত্তা ক্যামেরা নেটওয়ার্ক রয়েছে ভবন ও খোলা জায়গায় অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মিলিয়ে ১,২০০টির বেশি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের ২৫০টির বেশি ভবনের প্রতিটি হলওয়ে, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি ও অফিসে ক্যামেরা নেই। নিরাপত্তার স্বার্থে কোন ভবনে কোথায় ক্যামেরা আছে বা নেই সে তথ্য প্রকাশ করাও সমীচীন নয়।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি