৫ মে ২০২৬

বিটিআরসি ভাঙচুর, ৫৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনের নামে মামলা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৩ এএম
বিটিআরসি ভাঙচুর, ৫৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনের নামে মামলা

 

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: এনইআইআর সিস্টেম চালুর প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয়েছে। এতে ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একইসঙ্গে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আনুমানিক দুই কোটি এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।


শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ বাদি হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা দায়ের করেন৷ 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আগারগাঁও এলাকায় বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিটিআরসি ভবনের কাচের দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেন। 


এজাহারে আরও বলা হয়, ভাঙচুরের সময় বিটিআরসি ভবনের সামনে পার্ক করা ৫১ আসনবিশিষ্ট একটি এসি স্টাফ বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৭০৩৫) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়। সব মিলিয়ে বিটিআরসি ভবন ও যানবাহন ভাঙচুরে আনুমানিক দুই কোটি এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অংশ এনইআইআর সিস্টেম চালুর বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর সিস্টেম চালু করা হয়। পরে এনইআইআর চালুর খবরে আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা বিটিআরসি ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করেন এবং কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হলে দুষ্কৃতকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।


এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৪৫ জনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা আরও ১০ জন পলাতক আসামির নাম প্রকাশ করেন এবং তাদের সহায়তায় এ নাশকতা চালানো হয়েছে বলে স্বীকার করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। বাকি অজ্ঞাত আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কার্যকর লাগাম টানতে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর যুক্ত হচ্ছে জাতীয় ডাটাবেইজে। তবে বিষয়টি নিয়ে দেশের মোবাইল ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল।


বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি