৬ মে ২০২৬

বিশ্বব্যাপি করোনায় মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ছুঁই ছুঁই

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
বিশ্বব্যাপি করোনায় মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ছুঁই ছুঁই

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিতে বৈশ্বিক মৃত্যু দুই লাখ ছুঁই ছুঁই। করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে এই পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার দুইশ ৪৬ জন মারা গেছে। এছাড়া এদের মধ্যে সাত লাখ ৯৮ হাজার সাতশ ৭৬ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল নয়টা দুই মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এ তথ্য জানায়।

ওই সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৮২ জন। এদের মধ্যে ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পাঁচশ ১১ জনের রয়েছে মৃদু সংক্রমণ। তবে ৫৮ হাজার পাঁচশ ২৩ জনের অবস্থা গুরুতর।

সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নয় লাখ ২৫ হাজার ৩৮ জন। মৃত ৫২ হাজার একশ ৮৫ জন। স্পেনে করোনা রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ১৯ হাজার সাতশ ৬৪ জন। মারা গেছে ২২ হাজার পাঁচশ ২৪ জন।

বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ছয় ৮৯ জন। এদের মধ্যে মারা গেছে একশ ৩১ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছে ১১২ জন।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহেই বিশ্বে করোনায় এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে সাড়ে ১০ লাখের মতো। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সপ্তাহখানেক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া প্রায় সব দেশেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর উহানে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় চীন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেখানকার একটি বন্য প্রাণীর বাজার থেকে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তবে এখনো ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মেলেনি কোনো কার্যকর প্রতিষেধক বা ওষুধ। এরই মধ্যে বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি নাস্তানাবুদ। আর লকডাউনের মতো বিধি-নিষেধে খাদ্যসংকটে ভোগা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যের অভাবে বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডাব্লিউএফপি) প্রধান ডেভিড বিসলি সম্প্রতি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়কে বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে হবে। কয়েক মাসের মধ্যেই একাধিক দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারি আমরা। সত্য হচ্ছে, আমাদের হাতে আর সময় নেই।’

ডাব্লিউএফপির হিসাবে, বর্তমানে বিশ্বে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে আছে। এসব মানুষের বেশির ভাগই সিরিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বাসিন্দা। করোনার কারণে সাড়ে ২৬ কোটি মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগতে পারে।

চলতি মহামারিতে পর্যটন থেকে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেমিট্যান্স ধস, নিষেধাজ্ঞাসহ নানা কারণে বিশ্বে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

মহামারিতে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি কম হলেও এ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্বের সব পরিবার ও সব পর্যায়ের নেতাদের প্রতি শিশুদের সুরক্ষার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। বৈশ্বিক মন্দা এগিয়ে আসছে; এতে ২০২০ সালে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে।’

মৃত্যুতে শীর্ষ ১০ দেশ

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, করোনা মহামারিতে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। সেখানে অন্তত ২০ হাজার ৮৬১ জন মারা গেছে করোনায়। আক্রান্তের বিচারে ইউরোপের দেশ ইতালি তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও মৃত্যুতে দেশটি দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। সেখানে মারা গেছে সাড়ে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে মারা গেছে সাড়ে ২২ হাজার মানুষ। প্রায় ২২ হাজার প্রাণহানি নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে আছে ফ্রান্স। যুক্তরাজ্যে মারা গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের বেশি মানুষ। বেলজিয়ামে মারা গেছে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ। পাঁচ সহস্রাধিক করে মানুষ মারা গেছে ইরান ও জার্মানিতে। চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃতের সংখ্যা চার হাজার ৬৩২ জন। নেদারল্যান্ডসে মারা গেছে চার হাজার ২৮৯ জন। এ ছাড়া মৃত্যুতে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ব্রাজিলে মারা গেছে তিন হাজার ৪০৭ জন এবং তুরস্কে মারা গেছে দুই হাজার ৬০০ জন।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি