৭ মে ২০২৬

বিদেশী সাহায্য মুক্তির জন্য ট্রাম্প প্রশাসকের পক্ষের আদেশ সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
বিদেশী সাহায্য মুক্তির জন্য ট্রাম্প প্রশাসকের পক্ষের আদেশ সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত
  আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বুধবার রাতে ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা অর্থ মধ্যরাতের মধ্যে পুনরায় চালু করার নিম্ন আদালতের আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা সহায়তা সংস্থাগুলোকে শুক্রবার দুপুরের মধ্যে জবাব দিতে বলেছেন। এর আগে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক আমির আলি স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএসএআইডি দ্বারা চুক্তিবদ্ধ বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রমের অর্থ প্রদান বুধবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ভারপ্রাপ্ত সলিসিটর জেনারেল সারাহ হ্যারিস জরুরি আবেদনে সুপ্রিম কোর্টে লিখেছেন, এই নতুন আদেশ যা মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তার অর্থ প্রদান করতে বলছে তা নির্বাহী শাখার অধিকার লঙ্ঘন করছে। বিদেশনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে আর বিচার বিভাগের ক্ষমতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনের বিষয়টি বিচারপতি রবার্টসের কাছেই যায় কারণ তিনি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আসা জরুরি আপিল দেখেন। তার এই সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না আদালত সিদ্ধান্ত নেয় যে বিচারক আলির রায় বাতিল করা হবে কিনা। রবার্টস নিজে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন অথবা পুরো সুপ্রিম কোর্টে ভোটের জন্য পাঠাতে পারেন। বিচারপতি রবার্টস আদেশ দিয়েছেন, মামলার বাদীপক্ষকে শুক্রবার দুপুরের মধ্যে তাদের বক্তব্য আদালতে জমা দিতে হবে। তবে আপাতত বিচারপতি রবার্টসের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে বুধবার রাতের মধ্যে অর্থ ছাড় করার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে যা ইউএসএআইডি ভেঙে ফেলার ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনায় সাময়িক জয় এনে দিয়েছে। কিন্তু এর ফলে যারা ইউএসএআইডি থেকে অর্থ পায় সেই ঠিকাদার ও এনজিওগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তারা আদালতে জানিয়েছে, যদি প্রশাসন দ্রুত অর্থ না দেয় তাহলে কয়েকটি সংস্থা ও তাদের সদস্যদের এই সপ্তাহেই কার্যক্রম বন্ধ করতে হতে পারে। তারা বলেছে, 'এটি সময়ের প্রশ্ন আর সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।' আইনজীবী স্টিফেন ওয়ের্থ আদালতে লিখেছেন পুরো ১২ দিন ধরে প্রশাসন নিম্ন আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এসেছে এবং আদালতকে একবার নয়, দু’বার নয়, তিনবার পর্যন্ত আদেশ মানতে বাধ্য করতে হয়েছে। এরপরও তারা এই অসময়ের আপিল এনে আদেশ এড়ানোর শেষ চেষ্টা করছে। পাবলিক সিটিজেন লিটিগেশন গ্রুপের পরিচালক অ্যালিসন জিভ বলেছেন, জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা বন্ধ করার লক্ষ্যে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করতে সরকার যে ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তিনি বাদীপক্ষের একটি গোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এদিকে বিচার বিভাগ পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছে, এই অর্থ পেতে বাদী পক্ষের জন্য এখনো অন্যান্য আইনগত পথ খোলা রয়েছে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইউএসএআইডি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যার মধ্যে রয়েছে তার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সমস্ত ফেডারেল সহায়তা অর্থ প্রদানে বিরতি ঘোষণা করা। বেশিরভাগ ইউএসএআইডি কর্মীকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের অফিস এবং অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক কর্মীকে বরখাস্তও করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেডারেল ব্যয়ের খাত পুনর্গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মনোনীত বিচারক আমির আলি মধ্যরাতের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি রায় দিয়েছিলেন যে ট্রাম্প প্রশাসন তার আদেশ লঙ্ঘন করেছে তবে এই কারণে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ আনেননি। একটি পৃথক মামলায়, রোড আইল্যান্ডের একজন ফেডারেল বিচারকও রায় দিয়েছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের আদেশ এড়িয়ে গেছে, কারণ তার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তারা পুরোপুরি বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় করেনি। [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি। এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি