৫ মে ২০২৬

বাংলাদেশের নির্বাচন: নির্বাসন থেকে প্রধানমন্ত্রী হবার পথে তারেক রহমান

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১১ পিএম
বাংলাদেশের নির্বাচন: নির্বাসন থেকে প্রধানমন্ত্রী হবার পথে তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

ছাবেদ সাথী: লন্ডনে প্রায় দুই দশকের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন যে পদে একসময় তাঁর বাবা-মা দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
খবরে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ভোটগণনায় শুক্রবার ভোরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করেছে।
২০০৮ সালে সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা বলে দেশ ছাড়েন ৬০ বছর বয়সী এই নীরব-স্বভাবের রাজনীতিক। প্রায় ১৭ বছর পর গত বড়দিনে তিনি ঢাকায় ফেরেন একটি যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর।
বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এবং তারেকের মা খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। তারেকের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম নেতা এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন, পরে তিনি নিহত হন।
তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাংলাদেশকে কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভরশীল না করে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্গঠন করবেন, যাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়। শেখ হাসিনার শাসনামলকে অনেকেই দিল্লিমুখী বলে মনে করতেন।
তিনি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত শিল্পের মতো খাতকে উৎসাহিত করা এবং স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীদের জন্য দুই মেয়াদে ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের কথাও বলেছেন।
দেশে ফেরার পর ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত ঘটেছে যে তিনি নিজেই বলেন, সময় নিয়ে ভাবার সুযোগ পাননি। গত শনিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'ঢাকায় নামার পর থেকে কীভাবে প্রতিটি মিনিট কেটেছে, তা আমি জানি না।'
ভাবমূর্তি পুনর্গঠন
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্ম নেওয়া তারেক রহমান খালেদা জিয়া ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা শুরু করলেও শেষ করেননি; পরে টেক্সটাইল ও কৃষিপণ্যে ব্যবসা শুরু করেন।
দেশে ফেরার পর তিনি নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। ২০০১–২০০৬ সালে তাঁর মায়ের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তাঁকে প্রভাবশালী ও ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে অভিযুক্ত করা হলেও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, 'প্রতিশোধ কাউকে কী দেয়? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। এতে ভালো কিছু আসে না। এ মুহূর্তে দেশের যা দরকার তা হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা।'
হাসিনার শাসনামলে তারেক একাধিক দুর্নীতির মামলায় আসামি হন এবং অনুপস্থিতিতে দণ্ডিত হন। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০১৮ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং হাসিনার পতনের পর সব মামলায় খালাস পান।
লন্ডন থেকে তিনি দেখেছেন তাঁর দল বারবার নির্বাচনে কোণঠাসা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা কারাবন্দি, কর্মীরা নিখোঁজ, দলীয় কার্যালয় বন্ধ।
ফেরার পর তিনি সংযত ভাষা ব্যবহার করছেন, উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে সংলাপ ও সংযমের আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি 'রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া' এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলছেন যা নতুন সূচনার প্রত্যাশায় বিএনপি সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছে। তাঁর পরিবারের পোষা সাইবেরিয়ান বিড়াল ‘জেবু’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তাঁর ভাবমূর্তি আরও নরম করেছে।
দলের ভেতরে তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী। দলীয় সূত্র জানায়, প্রার্থী বাছাই, কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাজবংশীয় রাজনীতির অংশ হলেও তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও টেকসই করা তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, 'গণতন্ত্র চর্চা করলেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারব এবং দেশ পুনর্গঠন করতে পারব। গণতন্ত্র চর্চা করলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব'। আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই, আমরা দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি