বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে সেমিফাইনালে উঠলো আফগানিস্তান
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিতে যাওয়ার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ, আফগানিস্তানও ছিল। কিন্তু সব কিছুই নির্ভর করছিল কঠিন সব সমীকরণে। আফগানদের ১১৫ রানে থামিয়ে সেই লক্ষ্য ১২.১ ওভারে টপকালে শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সাকিব-শান্তরা সেটি পারেনি। একপ্রান্ত আগলে রেখেও বাংলাদেশকে জেতাতে পারল না লিটন। বরং রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ৮ রানে হারিয়েছে আফগানিস্তান।
দ্বাদশ ওভারের প্রথম বল। রশিদ খানের গুগলিটা পাঞ্চ করে লন অনে ঠেলে ১ রান নিলেন তানজিম হাসান সাকিব। স্কোর বোর্ডে ১ রান যোগ হলেও বাংলাদেশ ছিটকে গেল চলমান বিশ্বকাপের বোর্ড থেকে। শেষ হয়ে যায় সেমিফাইনালের আশা। সেখান থেকে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা থাকলেও সেটাও হলো না। বৃষ্টি আইনে ৮ রানের হেরে সুপার এইটেই বিশ্বকাপ মিশনের সমাপ্তি ঘটলো নাজমুল হোসেনের দলের।
বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠলো আফগানিস্তান। সেই সঙ্গে নেট রান রেটে পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকেও পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়েছে রশিদ খানের দল।
নিউ ইয়র্ক সময় সোমবার (২৪ জুন) সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নেস ভ্যালে স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলিং তোপে ১১৫ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। সেমিফাইনালে যেতে হলে ১১৬ রানের লক্ষ্য ১২.১ ওভারেই পার হতে হতো বাংলাদেশকে। সেই উদ্দেশ্যে রান তাড়ায় নামলেও লক্ষ্য ছুটে পারেনি বাংলাদেশ। শেষমেশ জিততে পারেনি ম্যাচও। ১৭.৫ ওভারে ১০৫ রানেই গুটিয়ে গেছে লাল-সবুজের দল।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ফজল হক ফারুকির গুড লেংথের বল একপাশে সরাতে গিয়ে মিস করেন তানজিদ হাসান তামিম। বল আঘাত করে তার প্যাডে। আঙ্গুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও অবশ্য রক্ষা হয়নি। ৩ বলে কোনো রান না করেই ফরে যান তানজিদ।
দ্বিতীয় ওভারে আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাভিন-উল-হকের ফুল লেংথের স্লোয়ার বুঝতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। উড়িয়ে দিয়েছিলেন ডিপ স্কয়ার লেগে। অনায়াস ক্যাচ নেন মোহাম্মদ নবী। পরের বলে সাকিব আল হাসানকেও ফেরান নাভিন। নিজের বলেই ক্যাচ নিয়ে সাকিবকে শূন্য রানে বিদায় করেন তিনি।
এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। একপ্রান্তে ভালো খেলতে থাকা লিটনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন এই বাঁহাতি। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। পুণরায় খেলা শুরু হলে দলকে নিয়ে এগোতে থাকেন লিটন-সৌম্য। পাওয়ারপ্লে’তে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৬ রান।
এরপরই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন সৌম্য সরকার। ১০ বলে ১০ রান করে রশিদের লেগস্পিনে ধরা খান তিনি। সৌম্যের আউটের পর দুই ভারে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাওহীদ হৃদয়। তবে তাকেও ফিরিয়ে বাংলাদেশকে এক প্রকার খাদে ঠেলে দেন আফগান অধিনায়ক রশিদ।
এরপর মাহমুদউল্লাহ ক্রিজে এসে জুটি বাঁধেন লিটনের সঙ্গে। কিন্তু দলের সেমিফাইনালের স্বপ্নের পালে হাওয়া লাগানোর বদলে উল্টো আশার শেষটুকুও নিরাশা করে দেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ৯ বলে ৬ রান করে বিদায় নেন তিনি। সেই সঙ্গে শেষ হয় বাংলাদেশের সেমির আশা। পরের বলে রিশাদ এসে ফেরেন কোনো রান না করেই।
তানজিম সাকিবও পারলেন না টিকতে। ৩ রানে তাকে আউট করেন গুলবাদিন। দলের এই বিপর্যয়ের মাঝেই ফিফটি করেন লিটন। একপ্রান্ত আগলে ৪১ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে যান এই ওপেনার। এরপর লিটনকে সঙ্গ দেন তাসকিন। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শেষে মোস্তাফিজকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেই উল্লাসে মেতে ওঠে আফগানরা।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি