বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ সমতায় শেষ করল নিউজিল্যান্ড
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ডার্কওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এ জয়ে ১-১ ব্যবধান সিরিজ শেষ করল কিউইরা। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।
আজ শনিবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলতে নামে দুদল। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় ম্যাচটি মাঠে গড়ায়। যেখানে টস জিতে টাইগারদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম।
বৃষ্টি বাধায় পড়া ম্যাচে টাইগাররা ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অললাউট হয়। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ১৫ ওভারে নেমে এসেছে। পরে ৪ উইকেট হারিয়ে ও ২০ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কিউইরা।
বাংলাদেশ ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান তোলার পর মিরপুরে শুরু হয় বৃষ্টি। তাতে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে খেলা বন্ধ থাকার পর সাড়ে ৪টায় শুরু হয় খেলা। প্রথমে ম্যাচ ১৭ ওভারে হওয়ার কথা বলরেও নতুন করে জানানো হয়েছে, ম্যাচ হবে ১৫ ওভারের।
এতে দলের একজন বোলার সর্বোচ্চ ৩ ওভার করতে পারবেন। পাওয়ার প্লেও কমছে স্বাভাবিকভাবেই—৪.৩ ওভার। ইনিংস বিরতি হবে ১০ মিনিট।
ব্যাটিং নামা বাংলাদেশ ইনিংসে নিজের করা প্রথম বলেই উইকেট পেলেন জেইডেন লেনক্স। অফ স্টাম্পের বাইরে ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারিতে সাইফ সাহান ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টাইমিং গড়বড় হওয়ায় ধরা পড়েন টিম রবিনসনের হাতে। ১১ বলে ১৬ রান করেন তিনি।
আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ১০ বলে ৬ রান করে নাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন। পরের বলেই আউট হয়েছেন আরেক বাঁহাতি পারভেজ হোসেনও। নাথান স্মিথের ফুল লেংথ ডেলিভারিটি ভেতরে সুইং করে ঢুকেছিল। তানজিদ হাসান আড়াআড়ি ব্যাটে বড় শট খেলার চেষ্টা করে বোল্ড হয়েছেন।
এর পর পারভেজ ফিরেছেন দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে। শরীরের দিকে ধেয়ে আসা এক বাউন্সারে কিছুটা ভড়কে গিয়েছিলেন পারভেজ। সেটিকে আপার কাট করে থার্ড ম্যানের ওপর দিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। টাইমিং ঠিকঠাক হয়নি। শর্ট থার্ড ম্যানে দাঁড়িয়ে থাকা ইশ সোধি সহজ ক্যাচ নিয়েছেন।
বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে আউট হন লিটন দাস। পেসার জশ ক্লার্কসনের করা মিডল স্টাম্পের ওপরের গুড লেংথ ডেলিভারিটিতে লেগ সাইডে সরে গিয়ে ইনসাইড আউট শট খেলতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক। ঠিকঠাক টাইমিংটা হয়নি। তাতে ক্যাচ দিয়েছেন কাভারে থাকা ফিল্ডার স্মিথের হাতে। ১৭ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ২৬ রান করেন লিটন।
তাওহীদ হৃদয় ছাড়া দলের হয়ে এরপর কেউই দাঁড়াতে পারেননি। এই ব্যাটার ২৪ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৩ রান করেন। কিউই বোলারদের তোপে বাকিদের কেউই আর দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
সফরকারী বোলারদের মধ্যে জশ ক্লার্কসন সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পান। এছাড়া ২টি করে উইকেট পান নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স।
১০৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডের দলীয় ৩৩ রানে ৪ উইকেট তুলে ভালো শুরু করে বাংলাদেশ। এদের মধ্যে কাটেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভারকে দ্রুত ফেরান শরিফুল। পরে এই পেসার ১৪ বলে ২৩ রান করা আরেক ওপেনার টিম রবিনসনকেও আউট করেন। এছাড়া নিক কেলিকে মেহেদী হাসান বোল্ড করলে বাংলাদেশের দিকে ম্যাচ হেলে পড়ে।
কিন্তু পঞ্চম উইকেট জুটিতে বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফ্ট ৪০ বলে ৭১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে নিউজিল্যান্ডকে জয় পাইয়ে দেন। জ্যাকবস ৩১ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। আর ফক্সক্রফ্ট ১৫ বলে ১৫ করেন।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি