বাম জোটের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ২৫
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিল পণ্ড হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে চলা মিছিল লাঠিপেটা করে পণ্ড করেছে পুলিশ।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রথম বার্ষিকীকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের অংশ হিসেবে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সমাবেশের পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওনা হন জোটের নেতাকর্মীরা।
পথে কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশের দেয়া ব্যারিকেড ভেঙে তারা এগিয়ে যান। বেলা ১টার দিকে মৎস্য ভবনের সামনে আবার বাধার মুখে পড়েন বাম জোটের নেতাকর্মীরা। তারা সেখানকার ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
এক পর্যায়ে মিছিল থেকে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারার অভিযোগ করে পুলিশ সদস্যরা বাম জোটের নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় মৎস ভবন মোড় থেকে প্রেসক্লাবের দিকে যান চলাচল প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকে।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সিপিবি নেতা ক্বাফী রতন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের হামলায় জোটের নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকীসহ ২৫-২৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তারা সবাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছে গণতান্ত্রিক বাম জোট।
এ বিষয়ে ডিএমপি রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তাদের (বাম জোটের নেতাদের) অনুরোধ করেছিলাম যেন ব্যারিকেড না ভাঙে। কিন্তু তাদের নেতাকর্মীরা কথা শোনেননি। তারা প্ল্যাকার্ডের সঙ্গে থাকা লাঠি ও বাঁশ দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে।
পরে আমাদের পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন দুজন। আমরা অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি বলেও জানান তিনি।
রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চার-পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৮ আসনে অভাবনীয় জয় পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করে বাম জোট। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও ওই নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তোলে।
নির্বাচনের বছরপূর্তির দিনটি ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে সোমবার জেলায় জেলায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি করা হয় বাম জোটের পক্ষ থেকে।
সে অনুযায়ী সোমবার সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হন বাম জোটের নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা স্লোগান ধরেন-‘স্বৈরাচারের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও।’ সমাবেশ শেষে বাম জোটের নেতাদের কালো পতাকা মিছিল নিয়ে প্রধামমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওনা হয়।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাম গণতান্ত্রিক জোটের নতুন সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু সমাবেশে অংশ নেন।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আমার জানাজা পড়ানোর জন্য ওয়াহাবি বা জামায়াতের প্রয়োজন নেই: ফজলুর রহমান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি