আশ্রয়প্রার্থীরা আর স্থায়ীভাবে থাকতে পারবেন না যুক্তরাজ্যে
ইমা এলিস: হোম সেক্রেটারি দেশের আশ্রয় নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন, যার ফলে আশ্রয়প্রার্থীরা কেবল অস্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন।
শাবানা মাহমুদ সোমবার এমন সব সংস্কার উপস্থাপন করবেন, যার লক্ষ্য যুক্তরাজ্যকে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য কম আকর্ষণীয় করে তোলা এবং তাদের নির্বাসন প্রক্রিয়া সহজ করা।
প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া হবে, তাদের যদি নিজ দেশকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে তাদের সেখানেই ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে এবং তাদের স্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।
বর্তমানে শরণার্থী মর্যাদা পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকে। এরপর তারা অনির্দিষ্টকাল থাকার অনুমতি (ILR) এবং নাগরিকত্বের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।
হোম সেক্রেটারির এক ঘনিষ্ঠ মিত্র বলেন, ‘আজকের দিনে, শরণার্থী হওয়া মানেই যুক্তরাজ্যে আজীবন সুরক্ষা পাওয়া।’
‘মাহমুদ সেটি পরিবর্তন করবেন শরণার্থী মর্যাদা হবে অস্থায়ী এবং নিয়মিত পর্যালোচনাযোগ্য। আপনার নিজ দেশ নিরাপদ হলেই আপনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
‘এটি প্রযুক্তিগতভাবে ছোট পরিবর্তন মনে হলেও, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।’
মাহমুদ ডেনমার্কের কেন্দ্র-বাম সরকারের কঠোর নিয়ম অনুসরণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন, কারণ তার আশঙ্কা যদি ক্রমবর্ধমান অভিবাসন সংকট মোকাবিলা না করা হয়, তবে ‘অন্ধকার শক্তি’ যুক্তরাজ্যে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
শুক্রবার এক্স-এ প্রকাশিত ভিডিওতে মাহমুদ বলেন, তার পরিকল্পনাগুলো ‘আধুনিক সময়ে আমাদের আশ্রয় ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপজুড়ে আশ্রয়ের আবেদন কমে এলেও ব্রিটেনে তা বাড়ছে।
তিনি বলেন, আগের সরকার এই সমস্যা সমাধানে ‘বছর ধরে সময় পেলেও’ ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ডের রুয়ান্ডা প্রকল্পে সময় ও অর্থ ‘বরবাদ’ করেছে।
তিনি দাবি করেন, লেবার সরকারের অধীনে রেকর্ডসংখ্যক অভিযান ও গ্রেপ্তার হয়েছে এবং প্রায় ৫০,০০০ অবৈধ অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবারও ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে অভিবাসীরা যুক্তরাজ্যে আসতে থাকেন। ছবিতে দেখা যায়, নারী-পুরুষ ও শিশুদের ডোভার উপকূলে আনা হচ্ছে। একজন পুরুষকে হুইলচেয়ারে বসা অবস্থায় বন্দরে দেখা গেছে।
হোম অফিসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৯,০৭৫ জন চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।
এই সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০২৪ সালের পুরো বছরের (৩৬,৮১৬) এবং ২০২৩ সালের (২৯,৪৩৭) সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে, যদিও ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম (৩৯,৯২৯)।
এদিকে, বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা ঠেকাতে ফ্রান্সের সঙ্গে সরকারের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের অধীনে আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১১৩ জনকে ইউরোপে ফেরত পাঠানো হয়েছে, বিপরীতে অনুমোদিত নিরাপদ রুটে ৯২ জন যুক্তরাজ্যে এসেছে।
টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার ঘোষণার সম্ভাব্য অন্যান্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে—বিচারকদের পরিবার-জীবনের অধিকার বা নিজ দেশে ফেরত গেলে ‘অমানবিক’ আচরণের সম্ভাবনার চেয়ে জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা। ডেনমার্কের কঠোর পরিবার পুনর্মিলন নীতিও বিবেচনাধীন।
বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত দেয়, কঠোর নীতি আশ্রয়প্রার্থীদের গন্তব্য বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তেমন প্রভাব ফেলে না। তবে ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডেনমার্কের ‘নেতিবাচক জাতীয় ব্র্যান্ডিং’ আশ্রয় আবেদন কমাতে কার্যকর হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন সংখ্যা এখন রেকর্ড পর্যায়ে হোম অফিসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জুন ২০২৫ পর্যন্ত এক বছরে ১,১১,০৮৪ জন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
২০০১ সালে বর্তমান রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর যে কোনো ১২ মাসের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি