ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাগুলি
আসামিকে ধরতে এফবিআই অযথা তাড়াহুড়ো করেছে
আবু সাবেত: রোড আইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেল পিটার নেরোনহা (ডেমোক্র্যাট) সোমবার বলেছেন, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে পরে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এফবিআই 'ওভার দেয়ার স্কিজ'—অর্থাৎ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তাড়াহুড়ো করেছে। ওই ঘটনায় দু’জন নিহত এবং অন্তত নয়জন আহত হন।
সিএনএনের উপস্থাপক এরিন বার্নেট নেরোনহার কাছে জানতে চান, মোবাইল ফোনের তথ্য ব্যবহার করে এমন একজনকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিয়ে তাঁর মতামত কী, যিনি শেষ পর্যন্ত ওই গোলাগুলির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং পরে মুক্তি পান।
এর জবাবে নেরোনহা বলেন, হ্যাঁ, আমার মনে হয় তদন্তে যাঁরা অভিজ্ঞ নন বা যাঁদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নেই, তাঁরাই অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করেছেন। সেদিন স্থানীয় সাংবাদিকরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। আমি গত ১৫ বছর ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল, তাই শব্দচয়নে খুব সতর্ক ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, এর কারণ হলো—আপনি অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা পূরণ করতে না পারতে চান না। অবশ্যই প্রাথমিক প্রমাণ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করতে পারে, এবং এখানেও তা হয়েছিল। কিন্তু কাউকে শনাক্ত করার পর তার ফোন, তার কক্ষ বা গাড়ির জন্য তল্লাশি পরোয়ানা নেওয়া যায়, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা যায়।
পরীক্ষায় যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই ব্যক্তি সন্দেহভাজন নন, 'তাহলে তদন্ত সেখান থেকে এগিয়ে যায়। তবে যেসব প্রমাণ হাতে আছে, সেগুলোর ভিত্তিতে ওই সূত্র পুরোপুরি যাচাই করতেই হয়, যোগ করেন নেরোনহা।
তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবির সঙ্গেও একমত নন, যেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন সন্দেহভাজনকে ধরতে দেরি হওয়ার জন্য ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় দায়ী এবং এফবিআই ‘ঘটনার পর’ যুক্ত হয়েছে।
নেরোনহা বলেন, এ ধরনের ঘটনা কেউ আগাম অনুমান করতে পারে না। আমরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শহর—আমার নিজ শহর, এমনকি ছোট শহরগুলোকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত করার চেষ্টা করি। কিন্তু সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। এটি ব্রাউনের সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় সমস্যা—যার একটি বহিঃপ্রকাশ আমরা রোড আইল্যান্ডে দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির জন্য ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং বন্দুকধারীই দায়ী। তদন্তকারীদের লক্ষ্য হচ্ছে 'এই অপরাধের সমাধান করা, কোনো কারণ ছাড়াই ব্রাউনকে দোষারোপ করে বড় বক্তব্য দেওয়া নয়।'
এফবিআইয়ের সংগৃহীত মোবাইল ফোনের তথ্য নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের সাবেক ডেপুটি কমিশনার জন মিলার বলেন, এটি কয়েকটি 'গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতের' একটি।
সিএনএনের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বিশ্লেষক মিলার রোববার বলেন, 'এই সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ খুব সূক্ষ্মভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে এটি এফবিআই পরিচালিত একটি সূত্র ছিল। আজ প্রভিডেন্স পুলিশ ও এফবিআইয়ের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন হয়েছে কি না—আমি বলব, হয়েছে।'
প্রভিডেন্স পুলিশ বিভাগের প্রধান অস্কার পেরেজও উল্লেখ করেন, স্থানীয় পুলিশ একটি তথ্য পাওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব এফবিআইই নিয়েছিল। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পরই কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, তাঁকে হেফাজতে রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
সোমবার প্রভিডেন্স পুলিশ ও এফবিআই যৌথভাবে গোলাগুলির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির নতুন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি গাঢ় সবুজ ও ধূসর জ্যাকেট, গাঢ় জুতা, গাঢ় প্যান্ট, গাঢ় রঙের বিনি টুপি ও মুখোশ পরিহিত।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি