নতুন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি
'আগে বাংলাদেশের স্বার্থই রাখা হবে': তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভূমিধস বিজয়ের পর শনিবার তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'আগে বাংলাদেশের স্বার্থই ' রাখা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আগে বাংলাদেশের স্বার্থই রাখা হবে।'
এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে পরিষ্কার বাংলাদেশের স্বার্থ এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থই সবার আগে। বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করব।'
দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত এই নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান।
২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাটকীয় পতনের পর দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়, তার প্রেক্ষাপটে মোদির এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি পানি বণ্টন, সীমান্ত, সংযোগ এবং অবৈধ অভিবাসন ইস্যুও আলোচনায় রয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করার আগেই মোদি রহমানকে ফোন করেন।
নির্বাচনী ফল ‘গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট’
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান নির্বাচনের ফলাফলকে “গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট” হিসেবে অভিহিত করেন এবং সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি।
তিনি বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের। এই বিজয় গণতন্ত্রের। এই বিজয় তাদের, যারা গণতন্ত্রের জন্য স্বপ্ন দেখেছে এবং ত্যাগ স্বীকার করেছে।
প্রায় দুই দশক পর বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছে। ফলে এখন নজর থাকবে তারেক রহমানের ঘোষিত নীতিমালা কীভাবে বাস্তব নীতিতে রূপ নেয়, বিশেষত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায়। ‘ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’
তিনি বলেন,আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য একটি সামষ্টিক শক্তি, বিভক্তি একটি দুর্বলতা।
২০২৪ সালের সহিংস আন্দোলনের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন হিসেবে বৃহস্পতিবারের এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসন পেয়েছে, আর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,দেশের স্বাধীনতাকামী, গণতন্ত্রপন্থী মানুষ আবারও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বিজয়ী করেছেন।
সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
ভূমিধস বিজয় উদযাপনের মধ্যেও তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, নতুন সরকারকে গুরুতর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন,আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছি।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন,আমরা এমন একটি পরিস্থিতিতে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি, যেখানে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল হয়ে পড়া সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি