যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৮০ হাজারের বেশি অভিবাসীকে আইসিইর গুদামে রাখার পরিকল্পনা
নোমান সাবিত: ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন গুদাম খুলে নির্বাসনের অপেক্ষায় থাকা সর্বোচ্চ ৮০ হাজার আটক অভিবাসীকে সেখানে রাখার পরিকল্পনা করছে। ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই অন্তত ২২টি গুদামঘরকে আটককেন্দ্র হিসেবে সংস্কারের জন্য ঠিকাদার খুঁজছে। খসড়া নথির বরাতে বুধবার এই তথ্য জানায় পত্রিকাটি।
এই পরিকল্পনা সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রশাসন ২০২৬ সালে নির্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে যাচ্ছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিবাসীকে আটক করে রেখেছে সংখ্যা ৭০ হাজারেরও বেশি।
খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, বড় পরিসরের সাতটি আটককেন্দ্র শিল্প এলাকার সংস্কারকৃত গুদামে স্থাপন করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ রাখা যাবে। এর মধ্যে টেক্সাসে থাকবে দুটি কেন্দ্র। এসব কেন্দ্র থেকেই অভিবাসীদের নির্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া, আরও ১৫টি ছোট আকারের কেন্দ্র গুদামে স্থাপন করা হবে, যেখানে ৫০০ থেকে ১,৫০০ মানুষ রাখা যাবে। এগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যে মেক্সিকো সীমান্তঘেঁষা টেক্সাসে থাকবে দুটি কেন্দ্র।
পরিকল্পনাটি এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। তবে বর্তমান নথি অনুযায়ী, বড় আকারের কেন্দ্রগুলো যেসব শহরে স্থাপনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো হলো: স্ট্যাফোর্ড ভার্জিনিয়া, হাচিন্স টেক্সাস, হ্যামন্ড লুইজিয়ানা, বেটাউন টেক্সাস, গ্লেনডেল অ্যারিজোনা, সোশ্যাল সার্কেল জর্জিয়া ও কানসাস সিটি মিসৌরি।
আর ১৫টি ছোট প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র কয়েক সপ্তাহের জন্য অস্থায়ীভাবে অভিবাসীদের রাখবে, এরপর তাদের বড় গুদামকেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হবে। এসব কেন্দ্র স্থাপনের কথা রয়েছে:
লস ফ্রেসনোস টেক্সাস, এল পাসো টেক্সাস, হ্যাজারস্টাউন মেরিল্যান্ড, হাইল্যান্ড পার্ক মিশিগান, জেফারসন জর্জিয়া, জুপিটার ফ্লোরিডা, মেরিলভিল ইন্ডিয়ানা, মেরিম্যাক নিউ হ্যাম্পশায়ার, ওকলাহোমা সিটি, পোর্ট অ্যালেন লুইজিয়ানা,রক্সবুরি নিউ জার্সি, সল্ট লেক সিটি,
স্যান অ্যান্টোনিও, ট্রিমন্ট পেনসিলভানিয়া ও উডবুরি মিনেসোটা।
এদিকে আরেকটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সন্তানদের সঙ্গে না রেখেই অভিবাসীদের নির্বাসন দিয়ে ‘পরিবার বিচ্ছিন্নতা’ ঘটাচ্ছে আইসিই।
এই পরিকল্পনা ও কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেতে বর্ডার রিপোর্ট আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
কংগ্রেসে পাস হয়ে ৪ জুলাই ট্রাম্প স্বাক্ষরিত ‘বিগ বিউটিফুল বিল’-এর আওতায় আটক ব্যবস্থার জন্য আইসিই পেয়েছে বিপুল ৪৫ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হচ্ছে নতুন শয্যা ও আটক সুবিধা সম্প্রসারণে।
আইসিইর ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ৭২,১১০ জন অভিবাসী আইসিই হেফাজতে রয়েছেন। এর মধ্যে ৭০,১৯০ জন প্রাপ্তবয়স্ক; ৬৩,৭০০ জনের বেশি গত ১৮০ দিনের মধ্যে আটক হয়েছেন এবং ৭৭ জনকে ৭৩০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি আইসিই আটককেন্দ্রে সর্বোচ্চ সংখ্যা।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাইডেন প্রশাসনের সময় এই সংখ্যা ছিল ২০ হাজারেরও কম। ডিসেম্বরে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, এক বছরেরও কম সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রেসিডেন্সিয়াল ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্যগুলোর কিছু অর্জন করেছেন এবং এই প্রশাসনের কাজ এখনও শুরু মাত্র।
নোয়েম জানান, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ২২ হাজারের বেশি অভিবাসীকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বর্তমানে স্বেচ্ছা নির্বাসনে আগ্রহীদের জন্য ৩ হাজার ডলার ভাতা ও যাতায়াত খরচ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে আগে যা ছিল ১ হাজার ডলার। এই সীমিত সময়ের প্রস্তাব বছরের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
অভিবাসীরা সিবিপি হোম অ্যাপ–এর মাধ্যমে স্বেচ্ছা নির্বাসনের ঘোষণা দিয়ে এই অর্থ পাওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।
নোয়েম বলেন, অভিবাসীদের এই সুযোগ গ্রহণ করে স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে যাওয়া উচিত। কারণ তারা যদি তা না করে, আমরা তাদের খুঁজে বের করব, গ্রেপ্তার করব এবং তারা আর কখনোই ফিরে আসতে পারবে না।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি