যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে গাঁজা কোম্পানি
সংগৃহীত
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই শেয়ারবাজার—নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (এনওয়াইএসই) ও নাসডাকের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার নতুন কেন্দ্রে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গাঁজা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ‘অন দ্য মানি’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি বাধা দূর হতে শুরু করায় গাঁজা কোম্পানিগুলোর আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) আনার তোড়জোড় ব্যাপক বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে গাঁজাকে তৃতীয় মাত্রার (শিডিউল ৩) নিয়ন্ত্রিত দ্রব্যের তালিকায় নামিয়ে আনা হয়। এর ফলে এটি এখন আর হেরোইনের মতো মারাত্মক মাদকের তালিকায় নেই এবং চিকিৎসাকাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে গত এপ্রিলে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ডিইএ) এটিকে আইনের রূপ দেয়।
রাজ্য পর্যায়ে বৈধতা থাকলেও এতদিন কেন্দ্রীয় বিধিনিষেধের কারণে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে ডিইএ-তে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত হলে এখন আর মূলধন বাজারে প্রবেশে কোনো বাধা নেই।
আইনি জটিলতা কাটার পর এই বিশাল বাজারের দখল নিতে এনওয়াইএসই ও নাসডাকের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিযোগিতা। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্প দাঁড়িয়ে যাবে বার্ষিক প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে। বড় বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পথ খুলে যাওয়ায় স্টক এক্সচেঞ্জগুলোও এখন মুখিয়ে আছে এদের নিজেদের তালিকায় যুক্ত করতে।
এই দৌড়ে অবশ্য কিছুটা এগিয়ে রয়েছে এনওয়াইএসই। ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের গাঁজা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লাস হাউস ব্র্যান্ডস’ গত ৩০ জুন এনওয়াইএসইতে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হয়। এছাড়া ফ্লোরিডার প্রতিষ্ঠান ‘ট্রুলাইভ’-কেও নিজেদের তালিকায় টেনেছে এনওয়াইএসই। তবে এর পেছনে দুটি এক্সচেঞ্জের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গ্লাস হাউসের এক প্রতিনিধি জানান, এনওয়াইএসই-র সঙ্গে আলোচনার মাঝেই নাসডাক দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্তির প্রস্তাব নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
শেয়ার বিক্রি অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে হলেও মূলত তালিকাভুক্তি থেকেই এক্সচেঞ্জগুলোর সিংহভাগ আয় আসে। নামিদামি এসব শেয়ারবাজারে জায়গা পাওয়া মানে কোম্পানির জবাবদিহিতা ও নিয়মনীতির প্রতি আস্থা তৈরি হওয়া। পাশাপাশি এতে বাড়ে ব্র্যান্ডের সুনাম। ঐতিহ্যগতভাবেই এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও অ্যামাজনের মতো বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পছন্দ নাসডাক। অন্যদিকে এনওয়াইএসইতে প্রাধান্য ব্যাংকিং, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতের।
সম্প্রতি ওয়ালমার্টকে এনওয়াইএসই থেকে নিজেদের খাতায় টেনে নিয়ে বড় ধরনের চমক দিয়েছে নাসডাক। তালিকাভুক্তির খরচ কম হওয়াও এর বড় একটি কারণ। এনওয়াইএসইতে বছরে প্রায় ৫ লাখ ডলার খরচ হলেও নাসডাকে তা অর্ধেকেরও কম।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দুই জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ওপেন এআই এবং অ্যানথ্রোপিককে শেয়ারবাজারে আনার লড়াই তো রয়েছেই, তবে একই সঙ্গে আইনি বাধা দূর হওয়ায় গাঁজা শিল্প এখন দুই শেয়ারবাজারের বড় যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই গাঁজাকে ‘শিডিউল ৩’ থেকে আরও শিথিল করে ‘শিডিউল ৪’ বা ‘৫’-এ নিয়ে আসবেন। এতে করে এটি পুরোপুরি বৈধতা পাবে এবং সাধারণ বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য পণ্য তৈরিতেও মূলধন বাজারের বিপুল অর্থ ব্যবহারের চূড়ান্ত পথ খুলে যাবে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ লন্ডনে সরিয়ে নিলো নেদারল্যান্ডস
পাকিস্তানে আটক ভারতের সেই পাইলট যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান
সঙ্গীত একাডেমি