১৪ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি
যুক্তরাষ্ট্রের পিপিপি জালিয়াতির অর্থে মধ্যপ্রাচ্যে অন্য স্ত্রীর জন্য প্রাসাদ নির্মাণ
শারহাবিল শ্রেইতেহ ও তার স্ত্রী হানিয়া আতীক
আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক ট্যাক্স প্রস্তুতকারী, যিনি প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলারের কোভিড ঋণ জালিয়াতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন, সেই অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে তার আরেক স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেন যা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার অন্য স্ত্রীকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
৪৬ বছর বয়সী শারহাবিল শ্রেইতেহ প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার ঘুষ বা কমিশন পেয়েছিলেন। তিনি এক হাজারেরও বেশি মানুষকে ভুয়া পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) ঋণ পেতে সহায়তা করেছিলেন। নিজের এক সহযোগীকে তিনি একসময় স্বীকার করেছিলেন যে এটি সম্ভবত 'ইতিহাসের সবচেয়ে বোকামি ধরনের প্রতারণা।'
শ্রেইতেহ তার অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে ফিলিস্তিনে বসবাসরত তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ এবং একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়ি কেনেন। এতে ইলিনয়ে থাকা তার স্ত্রী হানিয়া আতীক শ্রেইতেহ প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
২০২১ সালের জুলাইয়ে তিনি স্বামীকে বার্তায় লিখেছিলেন, 'তুমি সত্যিই খারাপ!'
তিনি আরও লিখেছিলেন,'আমি ১৩ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করছি, কিন্তু সে কাজ না করেই যা পাচ্ছে তা আমি পাই না!'
আরেকটি বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, তুমি তাকে সন্তান দিয়েছ, একটি ভিলা দিয়েছ, এখন আবার বিলাসবহুল গাড়ি? ... আমি তোমার মিথ্যা কথা শুনে ক্লান্ত।'
শ্রেইতেহ ও হানিয়া ২০০৮ সালে বিয়ে করেন এবং শিকাগোর উপশহরে তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। তবে ফিলিস্তিনে থাকা অন্য নারীকে তিনি কবে বিয়ে করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। ওই নারীর সঙ্গে তার তিন সন্তান রয়েছে এবং তিনি প্রতিদিন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
তবে পরে মনে হয় হানিয়ার ক্ষোভ কিছুটা কমে যায়। আদালতে দাখিল করা এক নথিতে বলা হয়, 'দ্বিতীয় পরিবার থাকা তার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তার স্ত্রী এ বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন।'
২০২৫ সালের জুনে তাদের ১৭তম বিবাহবার্ষিকীতে হানিয়া ইনস্টাগ্রামে স্বামীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছিলেন,'১৭ বছর একসঙ্গে কাটালাম… জীবনে উত্থান-পতন ছিল, কিন্তু আমি এটি কোনো কিছুর সঙ্গে বদলাতে চাই না।'
মঙ্গলবার শিকাগোর একটি ফেডারেল আদালতে শ্রেইতেহকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলে তিনি কেঁদে ফেলেন।
তিনি বিচারককে বলেন, আমি এখন কী বলব বা করব বুঝতে পারছি না। এটি সবার জন্য খুবই ক্ষতিকর। আমি বাকরুদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক মার্থা প্যাকোল্ড বলেন, জালিয়াতির ব্যাপকতার কারণে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন ছিল।
আদালতে আরও জানা যায়, একই সময়ে তিনি প্রায় ৪০ হাজার ডলার বেকার ভাতাও গ্রহণ করেছিলেন, যদিও ঘুষের মাধ্যমে তিনি প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করেছিলেন।
প্রসিকিউটরদের মতে, ২০২০ সাল থেকে তিনি অন্তত ১,০২৫ জন গ্রাহকের জন্য ১,৫০০টির বেশি ভুয়া পিপিপি ঋণের আবেদন জমা দেন। এই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করা হয়, যার বেশিরভাগই পরে সরকার মাফ করে দেয়।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে ১৩টি ওয়্যার জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয় এবং ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সহায়তার জন্য পিপিপি কর্মসূচি চালু করা হলেও পরে এটি ব্যাপকভাবে অপব্যবহারের শিকার হয়।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি