যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি শিবিরে আটকের ৭ দিন পর অবৈধ অভিবাসীর মৃত্যু
মিনারা হেলেন: ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর তথ্যমতে, ক্যাম্প ইস্ট মন্টানায় আরও একজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। রোববার, ১৮ জানুয়ারি প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইস জানায়, এটি ওই কেন্দ্রে তৃতীয় বন্দির মৃত্যু। পাশাপাশি, চলতি মাসে ফোর্ট ব্লিসভিত্তিক এই বৃহৎ স্থাপনায় এটি দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা।
আইসিই'র তথ্য অনুযায়ী, নিকারাগুয়ার ৩৬ বছর বয়সী অনথিভুক্ত অভিবাসী ভিক্টর ম্যানুয়েল দিয়াজ ১৪ জানুয়ারি এল পাসোর ক্যাম্প ইস্ট মন্টানায় আইসিই হেফাজতে মারা যান। বিকেল ৪টা ৯ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আইসিই জানায়, চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তাকর্মীরা দিয়াজকে তার কক্ষে অচেতন ও সাড়া-প্রতিক্রিয়াহীন অবস্থায় পান।
তারা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে থাকা চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসাকর্মীদের খবর দেন জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে এল পাসো ইএমএস-কে জানানো হয়। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে ইএমএস পৌঁছে জীবনরক্ষাকারী প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৪ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৯ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আইসিই জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ এখনও তদন্তাধীন।
দিয়াজ ৬ জানুয়ারি আইসের হেফাজতে আসেন। আইসিই কর্মকর্তারা মিনিয়াপোলিসে তার মুখোমুখি হন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে তাকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইসিই রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ মার্চ তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তখন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের যুক্তরাষ্ট্র অংশে তাকে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা আটক করেন। প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে ইমিগ্রেশন জজের সামনে হাজিরার নোটিশ দেওয়া হয় এবং আদালতের তারিখ পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট একজন অভিবাসন বিচারক অনুপস্থিতিতে দিয়াজকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এরপর ১২ জানুয়ারি আইসিই তাকে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশভুক্ত হিসেবে প্রক্রিয়াভুক্ত করে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের অপেক্ষায় আটক রাখে।
ফোর্ট ব্লিস অভিবাসন কেন্দ্রে প্রথম যে বন্দির মৃত্যু হয়, তিনি ছিলেন গুয়াতেমালার ৪৮ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো গাসপার ক্রিস্তোবাল আন্দ্রেস। তাকে ১৬ নভেম্বর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ৩ ডিসেম্বর 'সম্ভাব্য স্বাভাবিক কারণে' তার মৃত্যু হয়।
দ্বিতীয় বন্দি, কিউবার ৫৫ বছর বয়সী জেরাল্ডো লুনাস কাম্পোস, মারা যান ৩ জানুয়ারি। তার মৃত্যু সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ভেরোনিকা এসকোবার জানান, শরণার্থী ক্যাম্পে এই সর্বশেষ মৃত্যুর বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এটি ১.২৪ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারিভাবে পরিচালিত এই কেন্দ্রে তৃতীয় মৃত্যু, যেখানে মৌলিক মানদণ্ড পূরণের বদলে মুনাফাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এক মাসে দুটি মৃত্যু মানে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে বন্দি গ্রহণ শুরু করে। এই স্থাপনাটি ফোর্ট ব্লিসের জমিতে অবস্থিত।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি