যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা স্ক্যানিংয়ে সরাসরি যুক্ত থাকবে না আইসিই কর্মকর্তারা
বিমানবন্দরে নিরাপত্তা স্ক্যানিং কার্যক্রম
আবু সাবেত: হোয়াইট হাউসের সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হোম্যান রবিবার জানিয়েছেন, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ)-এর কর্মীদের সহায়তায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে কাজ শুরু করলেও তারা সরাসরি নিরাপত্তা স্ক্যানিং কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।
সিএনএন-এর 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ডানা ব্যাশকে হোম্যান বলেন, যেখানে আমরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে পারি, সেখানে দেব। তবে আমি কোনো আইসিই এজেন্টকে এক্স-রে মেশিন পরিচালনা করতে দেখছি না, কারণ সে বিষয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ নেই।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার কিছু কাজ আছে যেগুলো টিএসএ করছে সেসব দায়িত্ব থেকে তাদের সরিয়ে আমরা বিশেষায়িত কাজের দিকে পাঠাতে পারি, যাতে লাইনের চাপ কমানো যায়।
এর আগে রবিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, সোমবার থেকে আইসিই কর্মকর্তারা টিএসএ-কে সহায়তা করবেন এবং পুরো কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকবেন হোম্যান। তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত আইসিই পরিচালক টড লায়ন্স এবং ভারপ্রাপ্ত টিএসএ প্রশাসক হা নগুয়েন ম্যাকনিলের সঙ্গে মিলে তিনি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছেন।
হোম্যান বলেন, আজকের মধ্যেই আমাদের পরিকল্পনা প্রস্তুত হবে। তিনি আরও জানান, এই পরিকল্পনা এখনও প্রক্রিয়াধীন থাকলেও যেসব বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় সবচেয়ে বেশি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর শাটডাউন ৪০ দিনের কাছাকাছি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে টিএসএ কর্মীদের একটি বড় অংশ কাজে অনুপস্থিত থাকছেন, ফলে দেশজুড়ে বিমানবন্দরে দীর্ঘ নিরাপত্তা লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।
জনবল সংকটের কারণে ফিলাডেলফিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল এয়ারপোর্টসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ডিএইচএস-এর ভারপ্রাপ্ত সহকারী সচিব লরেন বিস জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারি শাটডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে ৩৬৬ জন টিএসএ কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন। গত মাসের শেষ দিকে টিএসএ কর্মীরা আংশিক বেতন পেলেও গত সপ্তাহে তারা কোনো বেতনই পাননি। এ অবস্থায় আইসিই কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সহায়তায় প্রস্তুত বলে জানান হোম্যান।
তিনি বলেন, দেশের অনেক বিমানবন্দরেই ইতিমধ্যে আইসিই এজেন্ট নিয়োজিত আছে। তারা চোরাচালানসহ নানা অপরাধ তদন্তে কাজ করে। কিন্তু টিএসএ কর্মকর্তাদের কিছু কাজ আছে যেমন এক্সিট গেট পাহারা দেওয়া যেখানে আমরা সহায়তা করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রশিক্ষিত আইসিই আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা সহজেই এক্সিট গেট পাহারা দিতে পারেন, যাতে কেউ ওই পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। এতে টিএইচএ কর্মকর্তারা স্ক্রিনিংয়ে মনোযোগ দিতে পারবেন এবং লাইনের চাপ কমবে।
তবে হোম্যানের এই বক্তব্য ট্রান্সপোর্টেশন সেক্রেটারি শন ডাফির বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন। ডাফি এবিসি নিউজকে জানিয়েছিলেন, আইসিই কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা স্ক্রিনিং কার্যক্রমেও সহায়তা করবেন।
ডাফি বলেন, দক্ষিণ সীমান্তেও তারা একই ধরনের নিরাপত্তা যন্ত্র ব্যবহার করে। প্যাকেজ বা মানুষসবকিছুই ওই মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এমন আইসিই এজেন্ট রয়েছে যারা প্রশিক্ষিত এবং সহায়তা করতে সক্ষম এবং তারা লাইনের চাপ কমাতেও কাজ করবে।
অন্যদিকে, ফক্স নিউজ সানডে অনুষ্ঠানে হোম্যান আবারও বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা মূলত এক্সিট পাহারা দেওয়ার মতো দায়িত্ব নেবেন, যাতে টিএসএ কর্মকর্তারা যাত্রী স্ক্রিনিংয়ে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।
হোম্যান আরও বলেন, বিমানবন্দরে আইসিই-এর অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রম 'সবসময়ই চলমান ছিল এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে বর্তমান উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো TSA কর্মীদের সহায়তা করা।
তিনি বলেন, এটি মূলত টিএসএ-এর পুরুষ ও নারী কর্মীদের সহায়তা করার বিষয়।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি