আবেদনে সহায়তার পেতে
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার জন্য সাজানো ডাকাতির অভিযোগে ভারতীয় ১১ নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা
১১ জন ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
আবু সাবেত: ভিসা আবেদনে ভুক্তভোগী হিসেবে ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দোকানে সাজানো সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জন ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন ফেডারেল প্রসিকিউটররা।
২৮ থেকে ৫২ বছর বয়সী এসব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ম্যাসাচুসেটস, কেনটাকি, মিসিসিপি ও ওহাইওসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে কনভেনিয়েন্স স্টোর, মদের দোকান ও ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টে সাজানো ডাকাতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন।
তাদের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং একজনকে ইতোমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জনকে ম্যাসাচুসেটসে গ্রেপ্তার করে বোস্টনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদের নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যে কেন্টাকি, মিসৌরি ও ওহাইও গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের মতে, ২০২৩ সালের মার্চ থেকে শুরু করে অন্তত ছয়টি সাজানো সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়। এসব ঘটনায় একজন ব্যক্তি অস্ত্রের মতো কিছু নিয়ে দোকানে ঢুকে কর্মচারীকে হুমকি দিত এবং ক্যাশ রেজিস্টার থেকে টাকা নিয়ে যেত যা সিসিটিভিতে ধারণ করা হতো।
এরপর তথাকথিত 'ভুক্তভোগী' কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুলিশে খবর দিতেন। উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ রিপোর্ট ও প্রমাণ তৈরি করা, যা পরে ইউ-ভিসা (ইউ ভিসা) আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া হতো, এই ভিসা নির্দিষ্ট অপরাধের শিকারদের জন্য, যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিটি 'ভুক্তভোগী' এসব ঘটনায় অংশ নিতে প্রায় ১০ হাজার ডলার করে দিতেন, যাতে তারা অভিবাসন সংক্রান্ত 'কাগজপত্র' (যেমন গ্রিন কার্ড বা ভিসা) পাওয়ার সুযোগ পান।
এছাড়া দোকানের মালিকদেরও ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডলার করে দেওয়া হতো ডাকাতির ঘটনা ঘটতে দেওয়ার জন্য। পুরো কার্যক্রমটি সমন্বয় করতেন মূল অভিযুক্তরা, যারা ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখতেন এবং নিশ্চিত করতেন যে দোকান খালি থাকলে তবেই ঘটনাটি ঘটানো হয়।
এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড, ৩ বছর তত্ত্বাবধানে মুক্তি এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এর আগে একই তদন্তে জড়িত থাকার কারণে রামভাই প্যাটেল নামের এক ব্যক্তিকে ২০ মাস ৮ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, পাশাপাশি সাজা শেষে তাকে দেশত্যাগ করতে হবে।
এই গ্রেপ্তারগুলো এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা জালিয়াতি ও অভিবাসন প্রতারণা দমনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইউএসসিআইএস এখন আবেদনকারীদের নথি, ব্যাকগ্রাউন্ড ও ডিজিটাল তথ্য আরও গভীরভাবে যাচাই করছে এবং সন্দেহজনক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিষয়টি পাঠানো হচ্ছে।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে সরকারের কঠোর অবস্থানেরই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি