৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারধসে প্রাণ গেল ৯ জনের

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে তুষারধসে প্রাণ গেল ৯ জনের

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় এক ভয়াবহ তুষারধসে ছয় ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এবং তিন গাইডসহ ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত ৪৫ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। 

যারা এই ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন, তারা পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ মা এবং স্ত্রী। পাহাড়ের প্রতি গভীর টান থেকে তারা পেশাদার গাইডের তত্ত্বাবধানে তিন দিনের একটি ব্যাককান্ট্রি স্কি অভিযানে গিয়েছিলেন।

নিহতদের মধ্যে লিজ ক্ল্যাবাঘ ও ক্যারোলিন সেকার নামের দুই বোন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য চার বান্ধবীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে— ক্যারি অ্যাটকিন, ড্যানিয়েল কিটলি, কেট মোর্স এবং কেট ভিট। তারা আইডাহো এবং বে এরিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘকাল ধরে একসঙ্গে স্কি করার নেশায় পাহাড় চষে বেড়াতেন। 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সবাই দক্ষ স্কিয়ার ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ নিয়েই অভিযানে নেমেছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির রুদ্ররোষের কাছে তাদের সব প্রস্তুতিই বিফলে যায়।

গত মঙ্গলবার সকালে যখন দলটি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন হঠাৎ করেই একটি ফুটবল মাঠের সমান তুষারস্তর তাদের ওপর আছড়ে পড়ে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আইসবার্গের মতো বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তারা। বিপদসংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকর্মীরা অভিযানে নামলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়। প্রবল বাতাস এবং শূন্য দৃশ্যমানতার মধ্যে উদ্ধারকারীরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, ততক্ষণে কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। ছয়জন বেঁচে ফিরলেও বাকিদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কোনো অপরাধমূলক অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

নেভাদা কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ায় এখনো আটজনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। 

উদ্ধার হওয়া বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, তুষারধসের পর তারা কয়েক ঘণ্টা একটি ত্রিপলের নিচে আশ্রয় নিয়ে সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন।

পাহাড়ের এই ‌‘মায়াবী জগৎ’ কীভাবে নিমেষেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হলো, তা নিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো কমিউনিটিতে। 

মনোবিজ্ঞানী সারা বয়েলেনের মতে, যারা পাহাড়কে ভালোবাসেন তাদের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ যেখানে তারা প্রশান্তি খুঁজতেন, সেখানেই প্রিয়জনদের হারানোর ট্রমা তাদের বয়ে বেড়াতে হবে। পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা আর ঝুঁকি— এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক মর্মান্তিক সমাপ্তি দেখল সিয়েরা নেভাদার এই অভিযান। সূত্র: সিএনএন

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি