৪ মে ২০২৬

ছাবেদ সাথী'র কলাম

যুক্তরাষ্ট্রে নথিহীন অভিবাসীরা মূল্য় দিচ্ছে কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে নথিহীন অভিবাসীরা মূল্য় দিচ্ছে কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না

ছাবেদ সাথী
সামাজিককর্মের ইন্টার্নকর্মীরা গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্কুলের কয়েকজন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীর কাউন্সেলিং করেন। তাদের একজন প্রায় পুরো সপ্তাহ শ্রেণিতে অনুপস্থিত ছিল। মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সে স্কুলে আসেনি। শুক্রবার তার শিক্ষক সিদ্ধান্ত নেন মেয়েটির মায়ের সঙ্গে কথা বলার কী হচ্ছে জানতে।
জানা গেল, শিশুটা অসুস্থ ছিল। কিন্তু তার মা ডাক্তার দেখাতে পারেননি, কারণ তার কাছে চিকিৎসার বিল মেটানোর মতো অর্থ নেই এবং মেডিকেডও নেই। মেডিকেড নেই কারণ তারা নথিহীন অভিবাসী।
ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমার নাগাল না থাকায় মা তার অসুস্থ সন্তানকে চিকিৎসকের কাছে নিতে পারেননি, প্রয়োজনীয় ওষুধও জোগাড় করতে পারেননি।
ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে নথিহীন অভিবাসীরা ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে মোট ৯৬.৭ বিলিয়ন ডলার কর প্রদান করেছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মোট অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মাত্র ২৭ শতাংশ নথিহীন।
অর্থাৎ, ওই ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ কর দিয়ে প্রায় ৯৭ বিলিয়ন ডলার রাষ্ট্রকে দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে কোন সেবা পায়নি। এর মধ্যে ৫৯.৪ বিলিয়ন গেছে ফেডারেল কর হিসেবে, আর ৩৭.৩ বিলিয়ন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য কর হিসেবে।


জনপ্রিয় ভুল ধারণার বিপরীতে, নথিহীন অভিবাসীরা ফেডারেল সরকারের কোনো সহায়তা পান না—১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের স্বাক্ষরিত কল্যাণ সংস্কার আইনের কারণে। তারা ফুড স্ট্যাম্প, ওয়েলফেয়ার, মেডিকেড, মেডিকেয়ার এমনকি ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর বিমাও পেতে পারেন না।
আইন অনুযায়ী বেশিরভাগ কল্যাণ সুবিধা পেতে সামাজিক নিরাপত্তা (সোশ্যাল সিকিউরিটি) নম্বর বাধ্যতামূলক। কেবলমাত্র ‘যোগ্য অভিবাসী’ যেমন স্থায়ী বাসিন্দা, আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী ও কিছু বিশেষ গোষ্ঠী এই সুবিধা পেতে পারে। অন্য সবাইকে আইনে 'অযোগ্য অভিবাসী' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ফেডারেল করের বিপুল অঙ্ক প্রদান সত্ত্বেও নথিহীন অভিবাসীদের সেই সেবাগুলো থেকেই বঞ্চিত করা হয়, যেগুলো রক্ষায় তাদের অর্থ ব্যয় হয়। অন্তত মেডিকেড দেওয়াই উচিত যা সমাজের জন্যও উপকারী হতো।
বর্তমানে তারা কেবল জরুরি মেডিকেডের আওতাভুক্ত যেখানে 'তাৎক্ষণিক ও স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসা যেমন প্রসবকালীন সেবা' পাওয়া যায়, আর কিছু অঙ্গরাজ্যে ডায়ালাইসিস বা ক্যানসারের চিকিৎসাও অন্তর্ভুক্ত। তবুও নথিহীন অভিবাসী বেশি থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোতেও জরুরি মেডিকেড ব্যয় পুরো মেডিকেড বাজেটের এক শতাংশেরও কম।
ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউট জানায়, নথিহীন অভিবাসীদের প্রদত্ত করের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অংশ পেরোল ট্যাক্স হিসেবে যায় যা সোশ্যাল সিকিউরিটি, মেডিকেয়ার ও বেকারত্ব বিমা তহবিল গঠনে ব্যয় হয়। অথচ এ সেবাগুলো তারা ভোগ করার অধিকার রাখে না।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে নথিহীন অভিবাসীরা ২৫.৭ বিলিয়ন ডলার সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স, ৬.৪ বিলিয়ন মেডিকেয়ার ট্যাক্স, এবং ১.৮ বিলিয়ন বেকারত্ব বিমা ট্যাক্স দিয়েছে। তারা সেবার মূল্য় দিচ্ছে কিন্তু সেবা পাচ্ছে না।
যদি ফেডারেল সরকার সকল নথিহীন অভিবাসীকে কাজের অনুমতি দেয়, তাহলে তাদের আয় বাড়বে, কর পরিশোধও বৃদ্ধি পাবে। ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ বলছে—এমন হলে কর আদায় বৃদ্ধি পাবে বছরে অতিরিক্ত ৪০.২ বিলিয়ন ডলার, মোট কর আদায় দাঁড়াবে ১৩৬.৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩৩.১ বিলিয়ন ফেডারেল সরকারে, আর বাকি ৭.১ বিলিয়ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারে যাবে।
কংগ্রেসের উচিত ক্লিনটন-যুগের কল্যাণ আইন সংশোধন করে অন্তত নথিহীন অভিবাসীদের মেডিকেডের সুযোগ দেওয়া। স্বাস্থ্যবিমা পেলে তারা চিকিৎসা নিতে পারবে তারা সুস্থ হবে। সুস্থ কর্মশক্তি মানেই উৎপাদনশীল শ্রমশক্তি। উৎপাদন বাড়লে মুনাফা বাড়বে। অর্থনীতি ত্বরান্বিত হবে। এই পরিস্থিতিতে কে ক্ষতিগ্রস্ত? বরং লাভবান হবে নথিহীন অভিবাসী শ্রমিকরা, তাদের কর্মসংস্থানদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সামগ্রিক অর্থনীতি।

ছাবেদ সাথী: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সম্পাদক বাংলা প্রেস।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি