৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচারের দায়ে বাংলাদেশির কারাদণ্ড

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচারের দায়ে বাংলাদেশির কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচারের অভিযোগে মোক্তার হোসেন নামের এক বাংলাদেশির ৪৬ মাস কারাদন্ড দিয়েছে মার্কিন আদালত। মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আদম পাচারকারী একটি শক্তিশালী চক্রের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত এ রায় প্রদান করেন। সেই সঙ্গে কারাবাস শেষে পরবর্তী ৩ বছর তাকে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মোক্তার হোসেন এক সময় মেক্সিকোর মন্টেরিতে থাকতেন। এ মামলার বিচার চলাকালে তিনি স্বীকার করে নেন যে, ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ এর অগাস্ট পর্যন্ত সময়ে অর্থের বিনিময়ে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করার পরিকল্পনায় তিনি জড়িত ছিলেন এবং তাদের তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিয়েছেন। এ কাজের জন্য মন্টেরিতে তিনি একটি হোটেলের ব্যবস্থা রেখেছিলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রগামী অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আশ্রয় নিত। এসব বহিরাগতকে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য হোসেন গাড়িচালকদেরকে অর্থ দিতেন এবং কীভাবে রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হতে হবে, সে বিষয়ে বহিরাগতদের পরামর্শ দিতেন। ৩১ বছর বয়সী মোক্তার ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হন। গতবছর অগাস্টে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে নেন। গত ৭ জানুয়ারি তার সাজার রায় আসে। টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সহায়তায় এই মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড স্পেশাল প্রসেকিউশনস সেকশনের ট্রায়াল অ্যাটর্নি জেমস হেপবার্ন ও এরিন কক্স। ক্রিমিনাল ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভিড পি বার্নস বলেন,মামলার আসামি একটি সংগঠিত চোরাচালান নেটওয়ার্কের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন, যিনি মুনাফার জন্য কাজ করতেন এবং যেসব বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চাইত, তাদেরকে শিকার বানাতেন। এই দণ্ডাদেশ এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িতদের জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসাবে কাজ করবে, যারা আর্থিক লাভের জন্য আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে ঠেলে দেয়। টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি রায়ানকে প্যাট্রিক বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরস্পর সম্পৃক্ত। আমাদের অবশ্যই জানতে হবে কারা আমাদের দেশে প্রবেশ করছে এবং কাউকে আমরা অবারিত সুযোগ দিতে পারি না। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমার অফিস সকল সহযোগী সংস্থার সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করছে। "বিদেশী সহযোগীদের সাথে আন্তর্জাতিক সীমানা জুড়ে তদন্তমূলক প্রচেষ্টাকে সমন্বিত করার জন্য এইচএসআইয়ের দক্ষতার ফলস্বরূপ হিসেবে মোক্তার হোসেনের তদন্ত, মামলা ও সাজা দেওয়া হয়েছে। সান আন্তোনিও'র মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগের হোমল্যান্ড সুরক্ষা তদন্তের ইনচার্জ শেন ফোল্ডেন বলেছেন, এইচএসআই আমাদের আইন প্রয়োগকারী অংশীদারদের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুরক্ষার জন্য হুমকির কারণ হিসাবে অপরাধমূলক ভ্রমণ নেটওয়ার্ককে আক্রমণাত্মকভাবে বাতিল করতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় পক্ষের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে।" এইচএসআই ল্যারেডো এইচএসআই হিউম্যান পাচারকারী ইউনিট, এইচএসআই মন্টেরেরি, এইচএসআই হিউস্টন, এইচএসআই ক্যালিক্সিকো, মার্কিন কাস্টমস এবং বর্ডার প্যাট্রোল, ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এবং মার্কিন মার্শাল সার্ভিসের সহায়তায় এই মামলাটি তদন্ত করেছিলেন। বিচার বিভাগের ফৌজদারি বিভাগ এবং এইচএসআইয়ের যৌথ অংশীদারিত্বের বহির্মুখী অপরাধ ট্র্যাভেল স্ট্রাইক ফোর্স (ইসিটি) প্রোগ্রামের আওতায় এই তদন্ত পরিচালিত হয়। ইসিটি প্রোগ্রামটি মানব চোরাচালান নেটওয়ার্কগুলিকে কেন্দ্র করে যা নির্দিষ্ট জাতীয় সুরক্ষা বা জননিরাপত্তা ঝুঁকি, বা গুরুতর মানবিক উদ্বেগ উপস্থাপন করতে পারে। ইসিটি তদন্তকারী, বুদ্ধিমত্তা এবং প্রসিকিউটরিয়াল সংস্থানকে উত্সর্গ করেছে। ইসিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারী সংস্থা এবং বিদেশী আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সমন্বয় করে এবং সহায়তা গ্রহণ করে। টেক্সাসের দক্ষিণ জেলার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাটর্নি অফিসের সহায়তায় এই মামলাটি ফৌজদারি বিভাগের মানবাধিকার এবং বিশেষ মামলা বিভাগের বিচারক অ্যাটর্নি জেমস হেপবার্ন এবং এরিন কক্সের দ্বারা বিচার করা হয়। বিপি।সিএস  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি