৫ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে মারা গেলেন সাংবাদিক টাটিয়ানা শ্লসবার্গ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে মারা গেলেন সাংবাদিক টাটিয়ানা শ্লসবার্গ

মিনারা হেলেন: পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি –এর নাতনি টাটিয়ানা শ্লসবার্গ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে মারা গেছেন। টার্মিনাল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানোর এক মাস পর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩৫ বছর।

পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। সেখানে লেখা হয়, আমাদের প্রিয় টাটিয়ানা আজ সকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থাকবেন।

এই বার্তায় স্বাক্ষর করেন তার স্বামী জর্জ মোরান, তাদের সন্তানরা, বাবা–মা ক্যারোলিন কেনেডি ও এডউইন শ্লোসবার্গ এবং ভাই–বোনেরা। তার ছোট ভাই জ্যাক শ্লোসবার্গ বর্তমানে নিউ ইয়র্ক থেকে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গত মাসে দ্য নিউ ইয়র্কার –এ প্রকাশিত এক আবেগঘন প্রবন্ধে টাটিয়ানা জানান, ২০২৪ সালের মে মাসে তার শরীরে অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া ধরা পড়ে একটি বিরল জেনেটিক মিউটেশন, যা সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়। প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় তার দাদার হত্যার বার্ষিকীতে।

তিনি লেখেন, চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে তার বেঁচে থাকার সম্ভাব্য সময়সীমা এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

প্রবন্ধে তিনি লেখেন, সারা জীবন আমি ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছি ভালো ছাত্রী, ভালো বোন, ভালো মেয়ে হতে চেয়েছি। মাকে কষ্ট না দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন আমি তার জীবনে, আমাদের পরিবারের জীবনে আরেকটি ট্র্যাজেডি যোগ করেছি, যা থামানোর ক্ষমতা আমার নেই।

এ প্রবন্ধে তিনি তার চাচাতো ভাই, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র –এর নীতিরও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট) থেকে বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ কমানো হয়েছে এবং এমআরএনএ ভ্যাকসিন গবেষণার জন্য প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলার কাটছাঁট করা হয়েছে যা ভবিষ্যতে কিছু ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার হতে পারত।

তিনি লেখেন, শত শত এনআইএইচ অনুদান ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বাতিল করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে হাজার হাজার রোগীর ওপর। আমি লিউকেমিয়া ও অস্থিমজ্জা গবেষণার তহবিল নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম, বিশেষ করে মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং –এ চলমান গবেষণা নিয়ে। যেসব ট্রায়াল ছিল আমার একমাত্র মুক্তির আশাও সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শঙ্কিত ছিলাম।

ভ্যাকসিন নিয়ে তার চাচাতো ভাইয়ের সংশয়বাদী বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায়, ববি হয়তো মনে রাখেন না, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগে পোলিওতে কত লাখ মানুষ পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা নিহত হয়েছিল। কিন্তু আমার বাবা মনে রাখেন। তিনি বলেছিলেন, ভ্যাকসিন নেওয়ার অনুভূতিটা ছিল মুক্তির মতো।

প্রবন্ধের শেষাংশে টাটিয়ানা তার জীবনের শেষ সময় পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর কথা লেখেন।

তিনি বলেন, আমি এখন শুধু বেঁচে থাকার চেষ্টা করি, তাদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করি। বর্তমান মুহূর্তে থাকা সহজ নয়। তাই স্মৃতিগুলো আসতে–যেতে দিই। অনেক স্মৃতি শৈশবের মনে হয়, একই সঙ্গে নিজেকে ও আমার সন্তানদের বড় হতে দেখছি।

তিনি আরও লেখেন, মাঝে মাঝে নিজেকে ভুলিয়ে দিই যে আমি এসব চিরকাল মনে রাখব, মৃত্যুর পরও। বাস্তবে তা হবে না। কিন্তু মৃত্যু কেমন, তার পর কী তা যেহেতু কেউ বলতে পারে না, তাই আমি অভিনয় করেই যাব। মনে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাব।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি