যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার সাংবাদিকের প্রথম সংশোধনী অধিকার নেই: ডিওজে
সাংবাদিক এস্তেফানি রদ্রিগেজ ফ্লোরেজ
মিনারা হেলেন: যুক্তরাষ্ট্রের নাশভিলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এক সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণ-নির্বাসন নীতির স্থানীয় প্রভাব নিয়ে প্রতিবেদন করায় সরকার তার প্রথম সংশোধনী অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) বলছে, তার এমন কোনো সাংবিধানিক অধিকার নেই।
নাশভিল নোটিসিয়াস-এর সাংবাদিক এস্তেফানি রদ্রিগেজ ফ্লোরেজ, যিনি কলম্বিয়ার নাগরিক, তাকে গত ৪ মার্চ একটি জিমের পার্কিং লটে আইসিই কর্মকর্তারা আটক করেন। তিনি তখন তার সংবাদমাধ্যমের লোগোযুক্ত গাড়িতে ছিলেন।
তার গ্রেপ্তার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষাকারী সংগঠন ও মুক্ত মতপ্রকাশের পক্ষের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। তার আইনজীবীদের দাবি, আইসিই কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন করার কারণে তার বিরুদ্ধে 'প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা' নেওয়া হয়েছে, যা অসাংবিধানিক।
কিন্তু টেনেসির ইউএস অ্যাটর্নির দপ্তরের আইনজীবীরা তাদের জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট কখনো স্পষ্টভাবে বলেনি যে অবৈধ বা অনথিভুক্ত অভিবাসীরা প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা পায়।
সরকারি আইনজীবীরা লিখেছেন,'ইতিহাস বা পূর্ব নজির কোনোটিই প্রমাণ করে না যে প্রথম সংশোধনী নিশ্চিতভাবে অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।'
রদ্রিগেজ ফ্লোরেজ ২০২১ সালে পর্যটক ভিসায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেন। তার একটি সাত বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে।
কলম্বিয়ায় সাংবাদিকতা করার সময় হুমকির মুখে পড়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসে আশ্রয়ের আবেদন করেন। পাশাপাশি স্বামীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্যও আবেদন করেন।
ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে তিনি নাশভিল নোটিসিয়াসে কাজ করছিলেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রভাব নিয়ে প্রতিবেদন করছিলেন।
তার আইনজীবীদের অভিযোগ, সরকার তার অতীতের মতপ্রকাশের জন্য প্রতিশোধ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাকে ও অন্য সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে চুপ করাতে চায়।
জানুয়ারিতে তিনি আইসিই অফিসে হাজিরার নোটিশ পান। তবে প্রথমবার গেলে অফিসটি তুষারঝড়ের কারণে বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে তাকে ১৭ মার্চ আবার আসতে বলা হয়।
কিন্তু নির্ধারিত তারিখের আগেই, ৪ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আলাবামার একটি কাউন্টি জেলে রাখা হয়।
তার আইনজীবীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে পরে লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়ার কথা থাকলেও সন্দেহভাজন স্বাস্থ্য সমস্যার অজুহাতে আবার স্থানীয় জেলে ফিরিয়ে আনা হয়।
তিনি পাঁচ দিন একাকী সেলে ছিলেন এবং তাকে জোর করে কাপড় খুলে গোসল করানো হয়। এ সময় এক কর্মকর্তা তার মাথায় এমন একটি রাসায়নিক তরল ঢালেন যা চোখে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একজন সহায়তাকারী নারী কর্মী নাকি এই ঘটনায় কেঁদে ফেলেন এমন দাবি তার আইনজীবীদের।
সোমবার একজন অভিবাসন বিচারক তাকে ১০ হাজার ডলার জামিনে মুক্তির আদেশ দেন, যা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আইসিই আপিল বিবেচনা করায় তিনি এখনো আটক রয়েছেন।
তার আইনজীবীরা বলেন, রদ্রিগেজের অতীত ও ভবিষ্যৎ মতপ্রকাশ প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত হওয়া উচিত—তিনি বৈধভাবে এই দেশে প্রবেশ করেছেন, পাঁচ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন এবং একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস তার দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তা ক্যাথরিন জ্যাকবসেন বলেন,প্রথম সংশোধনী অধিকার বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণে এখন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ব্যবহৃত হচ্ছে। রদ্রিগেজের গ্রেপ্তার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ।
তার স্বামী আলেহান্দ্রো মেদিনা বলেন,আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছি। আমি আশা করি এস্তেফানি দ্রুত বাড়ি ফিরবে এবং আমরা তার স্থায়ী বাসিন্দা ও ভবিষ্যতে নাগরিক হওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারব।
তিনি আরও বলেন, এই ভাঙা অভিবাসন ব্যবস্থা দেশের হাজার হাজার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমাদের পরিবারগুলো একসঙ্গে থাকার অধিকার রাখে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি