
বিশেষ প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ বছরে রেকর্ড ভেঙ্গেছে শৈত প্রবাহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মার্কিন নাগরিকরাই গণমাধ্যকর্মিদের বলেছেন গত ৫০ বছরেও এমন ঠান্ডা আর তুষারঝড় দেখননি তারা। চলতি বছরের শুরু থেকেই সেই ঐতিহাসিক ঠাণ্ডার কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চল। একেবারে হাড় হিম করা ঠাণ্ডা যাকে বলে। আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে যেমন ঠাণ্ডা তেমনি ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করেছে। অ্যান্টার্কটিকার মতোই জমে যাচ্ছে নদী-নালা-সাগর।
মঙ্গলবার থেকে শিকাগো, ডেট্রয়েট ও মিশিগানে বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে বয়ে চলেছে তুষারঝড়। অনেক এলাকার তাপমাত্রা শূন্যের বেশ কয়েক ডিগ্রি নিচে নেমে যায়। রাতের দিকে তাপমাত্রার আরও অবনতি ঘটে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ভয়াবহ ঠাণ্ডা থাকবে বলে পূর্বাভাসে ধারণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ।
মধ্যপশ্চিমাঞ্চল ও নিউ ইংল্যান্ডের প্রায় ৯ কোটি মানুষকে শূন্য ডিগ্রি কিংবা তার নিচের তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিভিন্ন শহরে সপ্তাহজুড়েই তীব্র শীত ও ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের। ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটায় গ্রেট লেক অঞ্চলের উত্তরে তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে মাইনাস ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো।
ভয়াবহ এ শীত এরই মধ্যে মিনেসোটা রাজ্যের এক ব্যক্তির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাজ্যটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ডাক বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারও বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
এর মধ্যে আড়াই কোটি লোককে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রার সঙ্গে লড়তে হবে। তীব্র এ শীতের সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস কয়েক মিনিটের মধ্যেই যে কাউকে ‘ফ্রস্টবাইটে’ আক্রান্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে মার্কিন আবহাওয়া বিভাগ।
বাতাসের কারণে ডাকোটা ও উত্তর মিনোসোটায় মঙ্গলবার সকালের তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অনুভূত হতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা। একই কনকনে বাতাস বয়ে যাবে মিনেপোলিস, মিলোয়াউকি, শিকাগো ও ডেট্রয়টের উপর দিয়ে। এসব অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই ঘর ছেড়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে।
বিপি/সিএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]