৪ মে ২০২৬

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছর ধরে ভোট দেওয়ার অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছর ধরে ভোট দেওয়ার অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

অবৈধ অভিবাসী মাহাদি সাক্কো

নোমান সাবিত: ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে আফ্রিকা থেকে আসা এক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারের একটি প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসে তীব্র বিতর্ক চলছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সোমবার জানায়, মাহাদি সাক্কো নামের এক মরিতানিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে ফিলাডেলফিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডিএইচএস-এর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি লরেন বিস বলেন, এই অপরাধী অবৈধ অভিবাসী ২০০৮ সাল থেকে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিয়ে একটি গুরুতর অপরাধ করেছে। অবৈধ বিদেশিরা আমেরিকার নেতা নির্বাচন করবে এটা হতে পারে না। আমাদের নির্বাচন আমেরিকান নাগরিকদের জন্য, বিদেশিদের জন্য নয়। নির্বাচন সুরক্ষিত করতে কংগ্রেসকে দ্রুত আমেরিকা বাঁচাও আইন পাস করতে হবে।
ফেডারেল অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়সী সাক্কো ১৯৯৮ সালের মার্চে মিয়ামি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। ২০০০ সালে এক ইমিগ্রেশন বিচারক তাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেন।
তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০০২ সালের ১৪ নভেম্বর বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস সেই আপিল খারিজ করে এবং বহিষ্কারের আদেশ বহাল রাখে। তবুও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েননি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
২০০৭ সালে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে গ্রেপ্তার করলেও মরিতানিয়ার পাসপোর্ট না থাকায় তাকে তখন বহিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাকে তত্ত্বাবধানে রাখা হয় এবং নিয়মিত আইসিই অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়, যা তিনি মেনে চলতেন।
২০২৫ সালের মে মাসে তদন্তকারীরা ফিলাডেলফিয়া কাউন্টির ভোটার রেকর্ড সংগ্রহ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাক্কো ২০০৫ সালে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন এবং একাধিকবার মিথ্যা দাবি করেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ভোটের রেকর্ডে দেখা যায়, তিনি ২০০৮, ২০১২, ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেন। এছাড়া ২০১৬ ও ২০২০ সালের প্রাইমারি নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি প্রায় সব নির্বাচনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভোট দেন, শুধু ২০২০ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেন।
নথিপত্রে আরও দেখা যায়, তিনি ভোটার নিবন্ধনের কয়েকটি কাগজপত্র পূরণ করেছিলেন যেখানে নিজের নাম, ঠিকানা, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং জন্মতারিখ উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে ঘোষণা দেন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে আমেরিকা বাঁচাও আইন পাস করার জন্য চাপ দিচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে, বিশেষ করে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে অনেক ডেমোক্র্যাটের দাবি, এ ধরনের আইন দুর্বল জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার সীমিত করতে পারে, কারণ প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। তবে সমর্থকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে অধিকাংশ মানুষই ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র ব্যবহার করে থাকে।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি