যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলারের কোভিড-১৯ জালিয়াতি মামলায় চার আসামির সাজা
যুক্তরাষ্ট্রের বিচারক বিভাগ
নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জেনিফার পি. উইলসন গত ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক জালিয়াতির দায়ে পেনসিলভানিয়ার ইয়ো শহরের সাবেক বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী জোশুয়া হোয়াইটকে ৯৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ এবং কারামুক্তির পর পাঁচ বছর তত্ত্বাবধানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার মিডল ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস সুত্রে এ খবর জানা গেছে।
ইউএস অ্যাটর্নি ব্রায়ান ডি. মিলার জানান, ফেডারেল পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) এবং ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন (ইআইডিএল) কর্মসূচি থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বহুবর্ষীয় ষড়যন্ত্র মামলায় জোশুয়া হোয়াইট ছিলেন চতুর্থ ও শেষ সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এই কর্মসূচিগুলো কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের আর্থিক সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছিল।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিচারক উইলসন জোশুয়ার বাবা, ৬৭ বছর বয়সী ক্রিড হোয়াইটকে তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় তার কর্মচারী ৫৪ বছর বয়সী জোসেফ বেইলিকে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরেক কর্মচারী ৪০ বছর বয়সী কেস্টার মারে-কে দুই বছরের প্রবেশন দেওয়া হয়।
ইউএস অ্যাটর্নি মিলার বলেন, আসামিরা সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলারের বেশি পিপিপি ও ইআইডিএল ঋণ প্রতারণার মাধ্যমে গ্রহণ করেন, যা মিডল ডিস্ট্রিক্ট অব পেনসিলভানিয়ায় বিচারের আওতায় আসা সবচেয়ে বড় জালিয়াতির অন্যতম। চারজনই শেষ পর্যন্ত দোষ স্বীকার করেন এবং প্রত্যেককে মিলিয়ন ডলার অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, ক্রিড হোয়াইট পেনসিলভানিয়ার ইয়োতে অবস্থিত অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়েস ম্যানুফ্যাকচারিং নামের একটি অ্যালুমিনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। মহামারির শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি দুর্যোগ ঋণ পায়। এরপর ২০২০ সালের বসন্ত থেকে ২০২২ সালের শরৎ পর্যন্ত তিনি নিজের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত ১৮টি নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ১২০টি ভুয়া ঋণ আবেদন জমা দেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকৃত কার্যক্রম বা কর্মচারী ছিল না।
প্রায় ৪০টি আবেদন অনুমোদিত হয় এবং ১ কোটি ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ক্রিড হোয়াইটের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। পরে তিনি ওই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করে অনুমোদনবহির্ভূত খরচ ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। এই জালিয়াতি কার্যক্রমে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করেন কখনও জেনে, কখনও না জেনে যাদের তিনি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখান।
জোশুয়া হোয়াইট তৃতীয় পক্ষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করেন এবং নিজ মালিকানাধীন একটি নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানের নামে আলাদা করে ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার PPP ঋণ নেন, যা তিনি অনুমোদনবহির্ভূত খরচ ও লাস ভেগাস সফরে ব্যয় করেন। বেইলি ও মারে ভুয়া ব্যবসায়িক, ব্যাংকিং ও কর সংক্রান্ত নথি প্রস্তুত করে আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন।
আইআরএস-ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের ফিলাডেলফিয়া ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইউরি ক্রুটি বলেন, “এই ব্যক্তিরা সচেতনভাবে ও বারবার পিপিপি ও ইআইডিএল কর্মসূচিকে প্রতারণা করেছেন, যা মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এই সাজা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।”
এসবিএ অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেলের ইস্টার্ন রিজিওনাল অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ আমালেকা ম্যাককল-ব্র্যাথওয়েট বলেন, মহামারি সহায়তা কর্মসূচির অপব্যবহার জনআস্থা নষ্ট করে এবং প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জন্য বরাদ্দ সম্পদ সরিয়ে নেয়।
মামলাটি তদন্ত করে আইআরএস-ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং যুক্তরাষ্ট্র ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল। সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি ক্রিশ্চিয়ান টি. হগসবাই মামলাটি পরিচালনা করেন।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি