১৩ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসী বহনকারী বিমান যাচ্ছে মধ্য আফ্রিকায়

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসী বহনকারী বিমান যাচ্ছে মধ্য আফ্রিকায়

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসী বহনকারী বিমান যাচ্ছে মধ্য আফ্রিকায়

আবু সাবেত: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের বহনকারী একটি বিমান শুক্রবার মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের (সিএআর) উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আইনজীবীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বিমানে ইরান, আফগানিস্তান, তুরস্ক ও জর্জিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।
তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের পাঠানোর এই ধরনের বহিষ্কার কর্মসূচি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এমনকি আইনি সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদেরও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য দেশে পাঠানো হচ্ছে।
দারিদ্র্য ও সহিংসতায় জর্জরিত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতায় বলা হয়েছে, কোনো কারণেই মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ভ্রমণ করবেন না।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন দেশটি থেকে পালিয়ে আসা ইরানি নাগরিকদেরও বহিষ্কার করছে। তাদের মধ্যে অন্তত দুইজন ইরানি নারী রয়েছেন বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন।
এই নারীরা 'উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল' মর্যাদা পেয়েছিলেন। এটি আশ্রয়ের (অ্যাসাইলাম) তুলনায় সীমিত অধিকার দিলেও পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর সময় অভিবাসন আদালতে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
তাদের আইনজীবী এমিলি ট্রস্টল এএফপিকে বলেন, 'আমাদের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত তাদের সেই দেশগুলোতেই ফেরত পাঠানো হতে পারে যেখান থেকে তারা পালিয়ে এসেছিলেন। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠানো অন্য বহিষ্কৃতদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা বারবার ঘটেছে।'
আইসিই ফ্লাইট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লুইজিয়ানার আলেকজান্দ্রিয়া থেকে উড্ডয়ন করে। শুক্রবার জিএমটি সময় দুপুর ১টার কিছু পরে এটি ঘানায় নির্ধারিত যাত্রাবিরতি করে। ঘানা বর্তমানে তৃতীয় দেশে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ঘানায় কিছু যাত্রীকে নামানো হবে নাকি সবাই মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে যাবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। মামলার সঙ্গে পরিচিত মার্কিন অভিবাসন আইনজীবী আলমা ডেভিড জানান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রগামীদের বেশিরভাগই বিভিন্ন দেশের 'উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল' সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যার মধ্যে ইরান, আফগানিস্তান, তুরস্ক ও জর্জিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ঘানার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কিংবা মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সরকার কোনো মন্তব্য করেনি।
নির্যাতনের অভিযোগ
ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করার অংশ হিসেবে বহিষ্কারের লক্ষ্যবস্তু ও গন্তব্য দেশ উভয়ই সম্প্রসারণ করেছে।
বহিষ্কৃত ব্যক্তি ও তাদের আইনজীবীরা ঘানায় অস্বাস্থ্যকর আটক পরিস্থিতি এবং এসওয়াতিনিতে অনির্দিষ্টকালের আটক থাকার মতো নানা নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।
ঘানা ও নিরক্ষীয় গিনি থেকে কিছু বহিষ্কৃত ব্যক্তিকে পরে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যদিও মার্কিন বিচারকরা আগে রায় দিয়েছিলেন যে সেখানে তাদের জীবন বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পৌঁছানোর পর এই ব্যক্তিদের কী হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এটি বাঙ্গুই সরকারের প্রথম বহিষ্কার-সংক্রান্ত চুক্তি। ট্রাম্প প্রশাসন আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের বেশ কিছু অস্বচ্ছ চুক্তি করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, 'উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল' সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ, কিন্তু অন্য যেকোনো দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনি বাধা নেই।
এমিলি ট্রস্টল বলেন, এই ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে এমন একটি দেশে ফেলে রাখা হচ্ছে, যেখানে তাদের কোনো বৈধ মর্যাদা, কোনো সম্পর্ক বা কোনো সহায়তা নেটওয়ার্ক নেই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, রুয়ান্ডার সেনা এবং রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপের ভাড়াটে যোদ্ধাদের সহায়তায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
তবে খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এই অস্থিতিশীল দেশজুড়ে এখনো সরকারবিরোধী বিদ্রোহী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গত সপ্তাহে আফ্রিকান কমিশন অন হিউম্যান অ্যান্ড পিপলস’ রাইটসে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাতে নিরক্ষীয় গিনিতে যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, নিরক্ষীয় গিনি যেন বহিষ্কৃতদের তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত না পাঠায়।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি