যশোরের শার্শার সরিষা চাষে চাষিদের স্বপ্ন পূরণ
রাজু রহমান,যশোর জেলা প্রতিনিধি: আমাদের দেশে ভোজ্য তেল উৎপাদনে সরিষার ভুমিকা অনশিকার্য।রান্না করা, গায়ে মাখা, পিঠা তৈরী, ভর্তা খাওয়াসহ নানা খাবারে আমরা সরিষার তেল ব্যবহার হয়ে থাকে।
যশোরের শার্শায় এবার সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষক। তাদের চোখে এখন শুধুই সরিষার ফুল।মাঠের পর মাঠ জুড়ে কেবল সবুজের মাথায় হলুদ ফুলের সমারহ। যে দিকে চোখ যায় কেবল হলুদের গালিচা চোখে পড়ে।
সরিষার হলুদ ফুল প্রকৃতিতে শোভা বর্ধনে যেন নব সাজে সাজিয়েছে সমস্ত মাঠ। হলুদ ফুলের সৌরভ বিমোহিত করছে মানুষকে। মৌমাছি মাতোয়ারা হয়েছে ফুলের মৌ মৌ গন্ধে। ফুল থেকে ফুলে মধু সংগ্রহকারী মৌমাছি দলবেঁধে ঘুরছে সারা মাঠ জুড়ে এমন মধুময় দৃশ্য লক্ষণীয় এখন যশোরের শার্শার মাঠে মাঠে।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিস জানাই, এ বছর শার্শা উপজেলায় সরিষার চাষে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ১শত হেক্টর জমি কিন্তু চাষ হয়েছে ৭ হাজার ১ শত ৮০ হেক্টর যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ৮০ হেক্টর বেশি। গত বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬হাজার ৩শত ৭৬ হেক্টর। গত বছরে তুলনায় এবছর ৭শত ৮০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। সরিষা চাষের উপযোগী মাটি, অনুকূল পরিবেশ, কৃষি বিভাগ থেকে সুপরামর্শ ও উৎসাহ প্রদান, সময় মত প্রণোদনার বীজ ও সার কৃষকের মাঝে বিতরণ উপজেলার কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ের চাষীদের সাথে কথা বললে তারা জানান,কৃষি বিভাগ থেকে আমরা সুপরামর্শ পেয়েছি। তারা জানিয়েছেন,অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত সরিষার চাষ করা যায়। এই চাষে সার, কীটনাশক ও সেচ কম লাগায় স্বল্প খরচে অধিক ফসল পাওয়া সম্ভব।
আমাদের দেশে সাধারণত যে সমস্ত সরিষার চাষ হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বারি- ৬,৭,৮,৯,১০,১১,১২,১৩,১৪,১৫,১৭,বিনা-৪,৭,৮,৯,১০ টরি-৭,বায-৫, দৌলত,কল্যাণীয়,ও সোনালী জাত অন্যতম। এর মধ্যে বারি-৯,বিনা-৪ ও টরি-৭ জাতের চাষ বেশি হয়েছে।
সরিষা চাষের বড় শত্রু কাটুই পোকা ও জাব পোকা। এছাড়া আরোবাংকি,কান্ড পচাঁ বা হোয়াইট মোন্ড,ডাউনি মিলভিউ ও পাতা ঝলসানো রোগ অন্যতম কিন্তু কৃষি বিভাগের আন্তরিকতা ও সার্বিক সহযোগীতার কারণে কৃষকরা রোগ বালাই মুক্ত সরিষা ঘরে তুলতে পারবে এমন আশ্বাস তাদের।
উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা জানান, সরিষা চাষে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছি গতবছরের তুলনায় এ বছর ৭শত ৯০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে দেশে তেলের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি করতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ৫ হাজার ৭ শত কৃষকের মধ্যে প্রতি বিঘায় ১ কেজি বীজ ও ২০ কেজি সার প্রদান করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দ্রুত চাষ করা সম্ভব হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সময় মত চাষ করায় এ বছর কৃষক কাঙ্খিত ফসল ও ন্যায্য দাম পাবেন।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নোয়াখালীতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস: স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যের আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি