ভেনেজুয়েলায় হামলার পর একাধিক দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি
আবু সাবেত: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর একাধিক দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প কিউবা ও কলম্বিয়াসহ অঞ্চলটির অন্যান্য দেশ নিয়ে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো-কে ইঙ্গিত করে বলেন, 'কলম্বিয়াও খুব অসুস্থ, একজন অসুস্থ মানুষের নেতৃত্বে চলছে, যে কোকেন বানাতে ও যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করে। তিনি খুব বেশিদিন এটা করতে পারবেন না।
কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, শুনতে আমার কাছে ভালোই লাগছে।
মেক্সিকো নিয়েও কড়া সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প। দেশটির মাদক কার্টেলগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মেক্সিকোকে নিজেদের কাজ গুছাতে হবে। তাঁর ভাষায়, মেক্সিকো নিয়ে আমাদের কিছু একটা করতেই হবে। আমরা চাই মেক্সিকোই এটা করুক—তাদের সক্ষমতা আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কার্টেলগুলো সেখানে খুব শক্তিশালী। তিনি জানান, কার্টেল দমনে মেক্সিকোকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
কিউবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কিউবা ভেঙে পড়ার মুখে। কিউবা দেখতে এমনই লাগছে। তারা টিকতে পারবে কি না জানি না। তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল থেকে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবার আয়ের উৎস কার্যত শুকিয়ে গেছে। তিনি বলেন, কিউবা সত্যিকার অর্থেই ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে এতে অনেক কিউবান-আমেরিকান খুশি হবেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে সফররত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম আলাদা এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কিউবার দিন গণনা করা হয়ে গেছে। আশা করি ২০২৬ সালে একদিন আমরা জেগে দেখব—আমাদের আঙিনায় এমন সব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করছে, যেগুলো মাদক-সন্ত্রাসী স্বৈরশাসকদের হাতে নেই।
লাতিন আমেরিকার বাইরেও উত্তরে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার।
পূর্বদিকে ইরান নিয়েও সতর্ক করেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগের মতো যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খুব কঠোর আঘাত আসবে।
শনিবার ভোরে কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস-কে আটক করার অভিযানের পর বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানদের ও লাতিন আমেরিকান কমিউনিটির একাংশের প্রশংসা পেলেও মেক্সিকো ও কলম্বিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম সোমবার বলেন, লাতিন আমেরিকার ইতিহাস স্পষ্ট হস্তক্ষেপ কখনো গণতন্ত্র বয়ে আনেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মেক্সিকোর সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো এক্স-এ দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিয়ে নিজেকে সংবিধান অনুযায়ী কলম্বিয়ার সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে পুনরুল্লেখ করেন।
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব। বিবিসির বরাতে জানা যায়, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন যুক্তরাষ্ট্রের দখলের ধারণাকে কল্পনা বলে আখ্যা দেন।
নিলসেন বলেন, আর চাপ নয়। আর ইঙ্গিত নয়। দখলের কল্পনাও নয়। আমরা সংলাপের জন্য প্রস্তুত, আলোচনার জন্যও প্রস্তুত। তবে তা হতে হবে সঠিক চ্যানেলের মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান রেখে।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি