ভারতীয় গণতন্ত্রের আজ সবচেয়ে কালো দিন : মেহবুবা মুফতি
বিদেশ ডেস্ক: ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ সোমবার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর অমিত শাহ এ ঘোষণা দেন। রাজ্যসভায় অমিত শাহ যখন এই ঘোষণা দিচ্ছিলেন তখন বিরোধীরা ব্যাপক প্রতিবাদ জানায়। এমন পরিস্থিতিতে সংসদের অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। পরে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে সংবিধানের ওই ধারা বাতিল সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নির্দেশমানা পড়ে শোনান।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে আর রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না জম্মু ও কাশ্মীর। বরং জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ভেঙে দুই ভাগ করা হয়েছে। তাই এখন থেকে উপত্যকার জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা থাকবে।
স্বাভাবিকভাবে ভারতের বিজেপি শাসিত সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের নেতারা। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি টুইট করেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ভারতের গণতন্ত্রের কালো দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
মেহবুবা এক টুইটে বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের আজ সবচেয়ে কালো দিন। ১৯৪৭ সালে দুই দেশের তত্ত্ব নাকচ করা ও ভারতের সঙ্গে থাকার জম্মু ও কাশ্মীরের নেতৃত্বে সিদ্ধান্তরই ফল এটা।
আরেক টুইট বার্তায় সরকারের উদ্দেশ্যকে ‘অশুভ’ বলে বর্ণনা করেছেন পিডিপি নেত্রী। তিনি বলেন, সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের জনতত্ত্ব বদলে দিতে চায়। এখন থেকে জম্মু ও কাশ্মীর আর রাজ্য রইল না। তাকে ‘পুনর্গঠিত’ করা হবে।
এর আগে গতকাল রাতে রাজ্যের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করে প্রশাসন। এসময় রাজ্যের শ্রীনগরে ১৪৪ ধারাও জারি করা হয়। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ রয়েছে উপত্যকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে উপত্যকায় সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছিল ভারত সরকার। সেখানে ইতোমধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি আধা সামরিক বাহিনী সদস্য মোতায়েন করা হয়। এরই মধ্যে অমরনাথের উদ্দেশে আসা সব তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের উপত্যকা থেকে বের করে নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি