তরুণরা বরাবরই সংঘাতমুক্ত নির্বাচন চায়

বাংলাপ্রেস ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটারা বড় ভূমিকা রাখবে। তরুণদের ভোট কাজে লাগাতে হবে, এজন্য তাদের আকৃষ্ট করতে হবে। তরুণরা বরাবরই সংঘাতমুক্ত নির্বাচন চায় বলে বিভিন্ন মন্তব্য উঠে এসেছে ‘নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা ও বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায়। গতকবল বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস। লিখিত প্রবন্ধে তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় নির্বাচনি ইশতেহারে তরুণদের আকৃষ্ট করা যায়— এমন কিছু কর্মসূচি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটাররাই বড় ভূমিকা রাখবে। তরুণদের ভোটকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য তাদের আকৃষ্ট করতে হবে।’ ‘লেটস টক’ অনুষ্ঠান থেকে আমরা জানতে পেরেছি— এই নতুন প্রজন্ম একজন রাষ্ট্রনায়কের বেড়ে ওঠা সম্পর্কেও জানতে উৎসুক।’’
ড. মিল্টন বিশ্বাস আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ২০১৮ পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ২৫ লাখের মতো ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তালিকায়। এই সময় ভোট বেড়েছে দুই কোটি ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৮ জন। যদিও দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন। কিন্তু নতুন ভোটাররা সচেতন হওয়ার পর অন্যকোনও সরকার দেখেনি তারা। আওয়ামী লীগ সরকারকে দেখেছে গত ১০ বছর একটানা। ফলে তাদের প্রত্যাশা অন্যদের থেকে আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক।’
তিনি বলেন,‘নতুন প্রজন্মের তরুণরা জানে আওয়ামী লীগ দেশপ্রেমে স্বতঃস্ফূর্ত এবং নিঃস্বার্থ। এর জন্য তারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ অথবা অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ওপেন কিংবা সিক্রেট দুর্নীতি দেখতে চায় না। এ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ ও স্বপ্নকে বাস্তব রূপে দেখার জন্য সহায়তা করতে চায়। তারা যেকোনও বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণকে অভিনন্দন জানাতে উন্মুখ থাকে। দেশের মন্ত্রীদের ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগের রীতি প্রচলিত হোক— তাও তারা প্রত্যাশা করে।’
মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক মেরুকরণ, বাজেট, উন্নয়ন, সুশাসন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের কারণে প্রসঙ্গটি সামনে এসেছে। এক জরিপে দেখা গেছে— দেশের ৬৮.৩ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ ভোটার বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্তুষ্ট। তাদের মধ্যে ৫৩.৫ শতাংশ ভোটার মনে করে— একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তরুণদের ৫১.৩ শতাংশ চায়— বর্তমান সরকার আবারও ক্ষমতায় আসুক।
আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন— পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এম এ মান্নান, কলামিস্ট মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আর রশিদ আসকারি এবং বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।
বাংলাপ্রেস /এফএস
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি