ট্রাম্প-মামদানির বৈঠকে জীবনযাত্রার ব্যয়–সংকট নিয়ে আলোচনা
ছাবেদ সাথী
২০২৫ সালের রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণীর তালিকায় কেউই ভাবেননি নিউ ইয়র্ক সিটির নতুন নির্বাচিত মেয়র ও নিজেকে ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচয়দানকারী জোহরান মামদানি হঠাৎ করেই হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করছেন এবং মাসের পর মাস কটাক্ষ বিনিময়ের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন। অথচ ঘটনাটা সত্যি এবং সত্যি বলতে, এই বৈঠকটা হওয়াই দরকার ছিল।
মাত্র ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নির্বাচন মৌসুমের আগে পাঁচটি বরো ছাড়া অন্য কোথাও খুব পরিচিত ছিলেন না। এখন তিনি জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে ট্রাম্প তাকে 'কমিউনিস্ট মেয়র' বলে আক্রমণ করছেন এবং দাবি করছেন মামদানি নাকি নিজেই হোয়াইট হাউস বৈঠকের অনুরোধ করেছেন। মামদানি বলছেন—এই বৈঠকের মূল বিষয় জননিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা—যা নিউইয়র্কবাসীর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

নিজের কথায় তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কেন এই মুহূর্তটি গুরুত্বপূর্ণ:
দশ-হাজারেরও বেশি নিউইয়র্কবাসীর কাছে এই বৈঠক দুই ভিন্ন রাজনীতিবিদের দেখা নয়, বরং একই কারণে তাদের ভোট দেওয়া দুই নেতার মুখোমুখি হওয়া। তারা এমন কাউকে চেয়েছেন যিনি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটকে সত্যিকার অর্থে মোকাবিলা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমার দলই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই বৈঠকের ব্যবস্থা করেছে, কারণ নিউইয়র্কের সাড়ে আট মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জীবনকে আরও সাশ্রয়ী করতে আমি যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করব। অনেক বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার মতবিরোধ আছে, কিন্তু আমাদের শহরকে সবার জন্য বসবাসযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব পথ ও সব বৈঠকের সুযোগ আমরা নিতে চাই।
কিন্তু এখানে আমার অজনপ্রিয় মত হলো-মামদানি এবং ট্রাম্প পরস্পরের চেয়ে অনেক বেশি মিল রাখেন, এবং ঠিক সেই কারণেই এই বৈঠক হতে পারে কার্যকর।
ভাবুন তো-দুজনেই রাজনৈতিক ‘বহিরাগত’ হিসেবে উঠে এসে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দুজনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মূলধারার মিডিয়াকে পাশ কাটিয়েছেন।
মামদানি এমনকি একটি প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করেছিলেন শুধু ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য—যা ট্রাম্পের ২০১৬ সালের কৌশলের হুবহু অনুকরণ।
তার টিম এনবিসি নিউজকে বলেছিল, তারা 'কম রাজনৈতিকভাবে যুক্ত দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে' চেয়েছিলেন-যা পুরোপুরি ম্যাগা স্টাইল।
আর তাঁদের মূল বার্তা?
জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি, এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা। ভাবধারা আলাদা হলেও তাঁরা একই সমস্যাকেই কেন্দ্র করে কথা বলেছেন।
যখন সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটো রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের ভোটাররা একই বার্তায় সাড়া দেন, তখন হয়তো বিভাজনটা আসলে শিরোনামের মতো এত গভীর নয়।
গত কয়েক মাস ধরে দুজনই একে অন্যকে কটাক্ষ করেছেন।
ট্রাম্প তাকে 'কমিউনিস্ট বলেছেন, দেশ থেকে তাড়ানোর কথাও বলেছেন, এমনকি ফেডারেল তহবিল আটকে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
মামদানি নির্বাচনী রাতে পাল্টা মন্তব্য করেছিলেন-'ভলিউম বাড়িয়ে দিন।'
ট্রাম্প ‘…আর তাই শুরু হয়!’ লিখেছিলেন ট্রুথ সোশালে।
রাজনীতি—নোংরা, তুচ্ছ, তবু বাস্তব।
কিন্তু আজকের বৈঠক?
এটা হয়তো দীর্ঘদিনে দুজনের নেওয়া সবচেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক সিদ্ধান্ত।
কারণ দুইজন মানুষ, যাঁরা বিভাজনকে নিজের ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন, যদি সামান্য হলেও সহযোগিতার ইঙ্গিত দিতে পারেন—তাহলে তা পুরো দেশেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠায়। তাঁদের একে অন্যকে ভালোবাসতে হবে না, এমনকি একমতও হতে হবে না। কিন্তু উভয়েরই সামনে একই গুরুতর চ্যালেঞ্জ—জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট, যা লাখো আমেরিকানকে চাপে ফেলেছে। আর এই ইস্যুতে তাঁদের লক্ষ্য মিলিয়ে যায়।
আমার দৃষ্টিতে—
যদি মামদানি এবং ট্রাম্প সত্যিই এত মিল রাখেন, তাহলে হয়তো শুধু তাঁরা অতীত বিরোধ ভুলে গিয়ে আমেরিকাকে দেখাতে পারেন সেতুবন্ধন কেমন হতে পারে। নেতৃত্ব প্রমাণের এটাই তাঁদের সুযোগ।
আর সত্যি বলতে? এটাই হতে পারে তাঁদের দেওয়া সবচেয়ে 'সাশ্রয়ী' পরিবর্তন।
ছাবেদ সাথী: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সম্পাদক বাংলা প্রেস।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি