৪ মে ২০২৬

আইসিই এজেন্টদের হাতে আটক

টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্কের বিরুদ্ধে বহিষ্কার মামলা খারিজ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্কের বিরুদ্ধে বহিষ্কার মামলা খারিজ

টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ক

আবু সাবেত: ইমিগ্রেশন কোর্টের এক বিচারক টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রুমেইসা ওজতুর্কের বিরুদ্ধে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) কার্যক্রম বাতিল করেছেন। গত মার্চে মুখোশধারী আইসিই এজেন্টরা রাস্তায় তাঁকে আটক করার ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বহিষ্কার অভিযানের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য হয়ে ওঠে।
ওজতুর্কের আইনজীবীরা সোমবার এক ফেডারেল আপিল আদালতকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাঁকে বহিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইমিগ্রেশন বিচারক মামলাটি খারিজ করেছেন। তবে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আপিল আদালতে ওজতুর্ক এখনো তাঁর গ্রেপ্তার ও আটকাদেশের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করছেন।
এক বিবৃতিতে ওজতুর্ক বলেন, বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমার মামলাটি হয়তো তাঁদের আশা জোগাবে, যারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আইসিই–র হাতে অন্যায়ভাবে বন্দি হওয়া হাজারো নারীর মতো আমিও যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছি তা মুছে ফেলা যাবে না, তবে কিছুটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এটি আশাব্যঞ্জক।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে ওজতুর্ক ‘হামাসের পক্ষে কার্যকলাপে’ জড়িত ছিলেন। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ নথিতে স্বীকার করা হয়, তিনি কোনো ইহুদিবিদ্বেষী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন না এবং কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে প্রকাশ্য সমর্থনের বক্তব্য দেননি।
ওজতুর্ক একটি ছাত্র পত্রিকায় প্রকাশিত মতামত নিবন্ধের সহ-লেখক ছিলেন, যেখানে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপেক্ষা করেছে এমন সমালোচনা করা হয়েছিল। তবুও প্রশাসন, একটি প্রো-ইসরায়েলি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপের তৈরি অনলাইন তালিকার ওপর নির্ভর করে, তাঁর ছাত্র ভিসা বাতিল করে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
গত বছরের ২৫ মার্চ, ম্যাসাচুসেটসের সোমারভিলে নিজের বাসার কাছে হাঁটার সময় সাধারণ পোশাক পরা ও মুখ ঢেকে রাখা আইসিই কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন। এরপর তাঁকে লুইজিয়ানার একটি আইসিই আটক কেন্দ্রে ১,০০০ মাইলেরও বেশি দূরে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাখা হয়।
অন্য একটি মামলায় উন্মুক্ত হওয়া অভ্যন্তরীণ স্মারকে দেখা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্যক্তিগতভাবে ওজতুর্ক এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহমুদ খালিলসহ কয়েকজন উচ্চপ্রোফাইল অ্যাক্টিভিস্টকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রুবিওকে সতর্ক করেছিলেন যে, প্রথম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত মতপ্রকাশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ভিসা বা গ্রিন কার্ড বাতিল করলে তা আদালতে টিকবে না।
নিজের মুক্তির দাবিতে দায়ের করা মামলায় ওজতুর্কের আইনজীবীরা বলেন, তাঁর গ্রেপ্তার ও আটক প্রতিহিংসামূলক এবং সংবিধানের প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে।
৯ মে গ্রেপ্তারের ছয় সপ্তাহ পর এক ফেডারেল বিচারক তাঁকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন। ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। সেপ্টেম্বরে তিন বিচারকের বেঞ্চে শুনানি হলেও এখনো চূড়ান্ত রায় হয়নি।
ইমিগ্রেশন আদালত বিচার বিভাগ (ডিওজে)–এর অধীন পরিচালিত হয় এবং এসব কার্যক্রম সাধারণত জনসমক্ষে প্রকাশিত হয় না। ওজতুর্ককে বহিষ্কার করা যাবে না এ মর্মে বিচারকের সিদ্ধান্তটি সিলগালা অবস্থায় দাখিল করা হয়েছে।
সোমবার ফেডারেল আপিল আদালতে আইনজীবীরা লেখেন, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, তারা কোনো অ-নাগরিককে তাঁর বক্তব্যের প্রতিশোধ হিসেবে বহু মাস ধরে আটক রাখতে পারে যতক্ষণ না তারা একই সঙ্গে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করে, তা যতই ভিত্তিহীন হোক না কেন এবং এতে ফেডারেল আদালতের কোনো পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে না। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।
ওজতুর্কের আইনজীবী মাহসা খানবাবাই বলেন, প্রশাসন ভিন্নমত দমন করতে অভিবাসন ব্যবস্থাকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করেছে।
 তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার ও গাজার মানবিক সংকট নিয়ে কথা বলাকে চুপ করাতে অভিবাসন আইনকে ব্যবহার করা হয়েছে।
“আইনগত অবস্থান বজায় রাখা কারও ভিসা গোপনে বাতিল করে, কেবল মতপ্রকাশের কারণে তাকে আটক ও বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় ফেলা এটি কাফকাসুলভ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওজতুর্ক বলেন, তিনি তাঁদের জন্য শোকাহত যারা তাঁদের ওপর হওয়া নির্যাতন প্রকাশ্যে আনতে পারেন না।
তিনি যোগ করেন, যখন আমরা অভিবাসীদের প্রতি আচরণ এবং গাজায় যা ঘটছে এসব অন্যায় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলি, তখনই প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি