৭ মে ২০২৬

স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা চান তিস্তা পাড়ের মানুষ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা চান তিস্তা পাড়ের মানুষ

মামুনুর রশিদ (মিঠু),লালমনিরহাট প্রতিনিধি: রিলিপ সিলিপ মেলা দেচেন আর নোওয়ায়, পরের বচর হামরা রিলিপ না নেমো। তোমরা হামাক তিস্তার দুই পাকে বান্দিয়া উচা করি বাদ বানে দেবেন। কথা গুলো ছিলো খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি এলাকার চারবার তিস্তায় ঘড় হারানো আলম বাদশার। দশ কেজি ত্রাণের চাল বা ছোট ছোট বাঁধ না দিয়ে, সেই টাকায় তিস্তা নদী খনন করে এবং স্থানীয় বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে চিরস্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা চান তিস্তাাপাড়ের আলম বাদশা সহ হাজারো মানুষ। তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন মানুষ জানান, প্রতি বছর বন্যা আর ভাঙনের কবলে পড়ে দেশের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষা এলে জিও ব্যাগ বা বালুর বস্তা ফেলে সরকারি শত কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।

মেরামতের নামে অর্থ খরচ করে ছোট ছোট যেসব বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে, তা কয়েক দিনের স্রোতে বিলিন হচ্ছে। আবার কখনো বাঁধের পাশে ভেঙে গিয়ে অকার্যকর হচ্ছে এসব ছোট বাঁধ। কারণ তিস্তা নদীর তলদেশ বালু পড়ে ভরাট হওয়ায় পানিপ্রবাহের রাস্তা না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকালয় ভেঙে দীর্ঘায়ত হচ্ছে তিস্তা নদী। ভাঙনের কবলে ঘরবাড়ি। তিস্তার ভাঙনরোধে প্রতিবছর শত কোটি টাকা খরচ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু এতে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হচ্ছে না; বরং বেড়েই চলেছে। এছাড়াও বন্যা ও ভাঙনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার নামে কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেও তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ দূর হচ্ছে না।

তাই নদী খনন করে দুই তীরে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ চান তিস্তা পাড়ের মানুষ। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা চন্ডিমারী গ্রামের আব্দুল মজিদ, মহিয়ার রহমান, মোফাজ্জল হোসেন, রাশেদুল ও সোলেমান আলী বলেন, ভাঙন শুরু হলে বোমা মেশিনে বালু তুলে প্রতিবছর বাঁধ বা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের ব্যর্থ চেষ্টা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বোমা মেশিনে বালু তোলায় পরক্ষণেই ভেঙে যাচ্ছে বাঁধ। ১০টি বালুর বস্তা ফেলে ৫০ বস্তার ভাউচার জমা দিয়ে কোটি টাকা লোপাট করছেন তারা।কিন্তু কোনো কাজে আসছে না। সারা বছরের রোজগারে তৈরি করা বাড়ি বন্যা মৌসুমে তিস্তায় বিলিন হয়ে হাজারো পরিবার পথে বসছে। পুরো বছরের আয় এক মুহূর্তে বিলিন হয়ে মিলছে মাত্র ১০ কেজি চালের ত্রাণ। তাই ত্রাণ নয়, তিস্তা খনন করে স্থায়ীভাবে বসবাস করার নিশ্চয়তা চান তারা। তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি।

পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হয় না। তাহাজুল, আব্দুল আজিজ, মোফাখখারুল ওএন্তাজ আলী বলেন, তিস্তা নদী জন্মলগ্ন থেকে খনন করা হয়নি। ফলে তলদেশ পলিমাটিতে ও বালুতে ভরাট হয়েছে। পানিপ্রবাহের পথ না থাকায় তিস্তা প্রতিবছর বসতভিটা, ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। প্রতিনিয়ত এ নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। খনন না করে হাজারো বাঁধ দিলেও তিস্তার ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। ভোটের সময় এমপি-মন্ত্রীরা নদী খননের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেন। মন্ত্রী হয়ে আর এলাকায় আসেন না। তাই তিস্তার স্থায়ী সমাধানে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে না। ফলে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি। এ জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। সদর উপজেলার খুনিয়াগাছের সাইদুল, তমিজ উদ্দিন জানান, প্রতিবছর ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা সরাতে হচ্ছে।

একটি গাছ লাগালে ফল খাওয়ার সময় পাই না। নদী খনন করে দুই পাড়ে বাঁধ দিলে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তিস্তাপাড়ে দুর্ভোগের পরিবর্তে কৃষিবিপ্লব ঘটবে। এ জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যস্থাতা নিতে সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। গত কয়েক দিনে প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি তিস্তায় বিলিন হয়ে গেছে। তিস্তার করালগ্রাসে ভেসে গেছে, কয়েকটি বাঁধ ও রাস্তা-ঘাট। ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ। মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ায় স্বপ্ন ভেঙে গেছে চাষিদের। এভাবে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের হাজারো পরিবার। কোনো কোনো পরিবার ২০/২৫ বার বাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন নদীর ভয়াল থাবা থেকে। এভাবে তিস্তার ভাঙনে নিঃস হচ্ছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ।

গত রোববার (১৪ জুলাই) বন্যা ও ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে তিস্তা পাড়ের মানুষের দাবির মুখে পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেছেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ লাঘবে শিগগিরই তিস্তা নদী খনন করে উভয় তীরে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে লালমনিরহাট নদী বাঁচাও আন্দরনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, তিস্তার বালুর দেশে ও বিদেশে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছ। সরকার চাইলে তিস্তার বালু বিক্রি করেই নদীপাড়ের মানুষে দুর্ভোগ মেটাতে পারেন।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি