৮ মে ২০২৬

সৈয়দপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
সৈয়দপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলা

এম আর আলী টুটুল, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। উভয়পক্ষ আদালতে মামলা করলেও একটি পক্ষ নিজের দোষ ঢাকতে মামলা করেছে। গতকাল সরেজমিনে এলাকায় গেলে এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর বাগিচাপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র কফিল উদ্দিন তার স্ত্রী সন্তান ও শালিকাসহ তার ছেলে মেয়েদের নিয়ে একই বাড়ীতে বসবাস করেন। একই পরিবারে বসবাস করার কারণে মাঝে মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে।

এরই সূত্র ধরে কফিল উদ্দিনের ঘরের চালায় বৃষ্টির পানি পড়লে কফিল উদ্দিন টিন লাগায়। এছাড়া বৃষ্টির পানি হলে উঠানের মধ্যে পানি জমায়েত হয়। এ নিয়েও ঝগড়া হতো উভয় পক্ষের মধ্যে। টিন লাগানোর পর এতে কফিল উদ্দিনের শালিকার ছেলে জামিদুলের স্ত্রী শিউলী ক্ষিপ্ত হয়ে টিনের চালা ও সবজির জাংলা ভেঙ্গে ফেলে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরের দিন শিউলী তার পিতার বাড়ীতে গিয়ে ঘটনা বলে। তার পিতার বাড়িতে ঘটনা বলার পর তারা কোন কিছু না বুঝে গত ১০/৭/২০১৯ ইং তারিখে জামিদুল, শিউলী, ধনীর, বাচ্চা বাউ, মঞ্জু বেগম, হালিমা বেগম, কালঠি বেগম সহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জন ব্যক্তির কফিল উদ্দিনের বাড়ীতে ঢুকে তার ছেলে মোকলেছের স্ত্রী মর্জিনাকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ী মারডাং করে।

এক পর্যায়ে মর্জিনাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এসময় মর্জিনার নাকের ও কানের ৮ আনা স্বর্ণের জিনিস ও ঘরে রাখা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তার স্বামী এগিয়ে আসলে তাকেও মারডাং করে আহত করে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে উল্লেখিত ব্যক্তিরা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। মর্জিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে মর্জিনা সৈয়দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মেম্বর আজিজুল ইসলাম গ্রাম্য শালিস করেন। শালিসে জামিদুল ১৫ দিন সময় নেন মিমাংসার জন্য। সময় নিয়ে তারা নীলফামারী নারী শিশু ট্রাইবুন্যালে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর – ২১৪/১৯ তারিখ ১৬/৭/২০১৯ইং। মামলায় মোকলেছ সহ ৩ জনকে আসামী করা হয়। আর শিউলী বেগম মর্জিনাকে মারডাং করে ১১/১৭/২০১৯ ইং তারিখে পিতার বাড়ীতে পালিয়ে যায়। সে ওই বাড়ীতে আর ছিল না। অথচ মামলাটি দেখানো হয়েছে ওই বাড়ীতে। আসলে মামলা সম্পন্ন মিথ্যা বানোয়াট।

সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। অপরদিকে থানায় অভিযোগ দিয়ে কোন কাজ না হওয়ায় এবং জামিদুল সময় নিয়ে আদালতে মামলা করায় বিপাকে পড়ে যায় মর্জিনা বেগম। তাই তিনিও নীলফামারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার পিটিশন নং ১৬০/১৯। শিউলী বেগমের মামলাটি সৈয়দপুর থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে আব্দুস সামাদ, তহিদুল, নূরাল্লী, আবু বক্কর সিদ্দিক,খতিবর, জহিরুন, রুবিসহ অর্ধ শতাধিক নারী পুরুষ জানান, শিউলী বেগম একটা খারাপ মহিলা। তার পিতার বাড়ীর লোকজন নিয়ে এসে মর্জিনাকে মেরে হত্যার চেষ্টা করে। তার স্বর্ণের জিনিস ও ঘরে রাখা টাকা নিয়ে যায়। ঘটনার দিন থেকে পিতার বাড়ীতে বসবাস করছেন শিউলী।

সে যে মামলা করেছে তাহা সম্পন্ন মিথ্যা মামলা। এরকম কোন ঘটনা আমাদের গ্রামে ঘটেনি। আমরা শিউলীর শাস্তি চাই। গ্রামবাসীর দাবী ঘটনাটি প্রশাসন সুষ্ঠ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। আমরা এলাকাবাসী শান্তি চাই। বিশৃঙ্খলা চাই না।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি