সৈয়দপুরে পুলিশি হয়নারীর আতংকে গ্রামবাসী পলাতক
এম আর আলী টুটুল সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুলিশি গ্রেফতার আতংকে একটি গ্রামে পুরুষ শুন্য। ঘটনাস্থল গিয়ে জানা যায়, বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত সমসের আলীর তিন ছেলে একটি বাড়ীতেই বসবাস করেন। বড় ছেলে হাসান আলী মিথ্যা মাদকের মামলায় জেল খেটে কিছুদিন আগে জামিন নিয়ে বেড়িয়ে আসেন।
গত ৯ মে রাতে পুলিশ হাসান আলী বাড়ীতে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। এসময় হাসানের পরিবার ও আশেপাশের লোকজন পুলিশের কাছে হাসানকে গ্রেফতারের কারণ জানতে চায়। প্রতিবাদ করতে গিয়ে অটোচালক মিল্টন হোসেন লিটন পুলিশের হাতে আটক হন। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে হাসানের লোকজনের ধস্তাধস্তি হয়। এতে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে হাসান ও মিল্টন হোসেন লিটনকে থানায় নিয়ে যায়।
ধস্তাধস্তির জের ধরে ওই দিন গভীর রাতে বেশী সংখ্যক পুলিশ গিয়ে মৃত সমসের আলীর বাড়ী ভাংচুর করে। এতে বাড়ীটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভাংচুরের সময় আশে-পাশের আলতাব, জামেলা ও মাহমুদার বাড়ীর দরজা ভাংচুর করা হয়। তাদের দাবী হাসান ও লিটনকে বিনাকারণে গ্রেফতার করার প্রতিবাদ করায় পুলিশ আশে-পাশের লোকজনের উপর হামলা ও অনেকের বাড়ীর দরজা ভাংচুর করে।
ঘটনার সময় ২ জন মেম্বার ও ২ জন গ্রাম্য পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী পরে জানতে পারে যে, অজ্ঞাত ৪০ জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ এলাকায় যাতায়াত করছে। যাকে পাবে তাকেই ওই মামলায় গ্রেফতার করা হবে। এই ভয়ে গ্রামের লোকজন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা রমজান মাসে বাড়ীতে ইফতার ও সেহরী খেতে না পেয়ে খোলা আকাশের নীচে রাত্রীযাপন করছে।
এলাকাবাসী পুলিশি হয়রানী বন্ধে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনের দাবী জানিয়েছেন। প্রত্যেক্ষদর্শী ওই গ্রামের বাসিন্দা ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ ছাবেদ আলী জানান,ঘটনার সময় আমি ও আর একজন ইউপি সদস্য মোঃ আনিছুর রহমান,গ্রাম্য পুলিশ জাহাঙ্গীর, জলিল এর সামনে পুলিশ বাড়ীটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। আমি কারণ জানতে চাইলে পুলিশের লোকজন বলে যে, উপরের নির্দেশে এটা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের অসহায় নিরীহ লোককে হয়রানী করা হচ্ছে।
তারা রমজান মাসেও বাড়ীতে থাকতে পাচ্ছে না। তারা বর্তমানে পুলিশি গ্রেফতার আতংকে ভুগছে। ঘটনাস্থলে গেলে শতশত নারী-পুরুষ সেদিনের ঘটনার কথা বর্ণনা করেন এবং পুলিশি হয়রানী ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন। তবে এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ বলছে হাসান একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাকে গ্রেফতার করতে গেলে তার লোকজন পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে চার পুলিশ আহত হয়। হামলার ঘটনা নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কাউকে হয়রানী করা হচ্ছে না।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি