৫ মে ২০২৬

সৈয়দপুরে এক শিক্ষকের ষড়যন্ত্রে অতিষ্ট একটি বিদ্যালয়

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
সৈয়দপুরে এক শিক্ষকের ষড়যন্ত্রে অতিষ্ট একটি বিদ্যালয়

এম আর আলী টুটুল, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরের কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক আমিনুর রহমান বিদ্যালয় কমিটির ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। এ নিয়ে তাকে একাধিকাবার সাময়িক বরখাস্ত করলেও তার ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি।

এলাকাবাসী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শিক্ষক আমিনুর রহমান কমিটির, শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, এলাকাবাসীর সাথে বিরুপ আচারণ ও ষড়যন্ত্রের কারণে একাধিকবার সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন ও অনেকের পিটুনি খান। বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক এসবের পরও আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। এতো কিছুর পরও তার ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। এসবের মধ্যে রয়েছে ১১/১১/১৯৯৯ ইং তারিখে তার কুর্কীতি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি হয় এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেন, ১৯/৩/২০০০ সালে কমিটি কর্তৃক সতকীকরণ নোটিশ প্রদান করেন, ৩/৪/২০০৫ ইং তারিখে আবারো সতর্কীকরণ নোটিশ প্রদান করা হয়, ২৮/১২/১৯৯৫ ইং তারিখে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের কৈফিয়ত তলফ করা হয়, ১৩/৪/২০০৯ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়, ১০/৬/২০০৬ ইং তারিখে কারণ নোটিশ প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহন, ২৫/৬/২০০৯ সালে কারণ দশানো নোটিশ, ২৪/৩/২০০৯ সালে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ, ০৭/৪/২০০৯ সালে ২২৪ জন অভিভাবকের স্বাক্ষর সম্বলিত বরখাস্তের আবেদন, ১৬/৪/২০০৯ সালে জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে মারামারির অভিযোগ, ১৬/৪/২০০৯ সালে ছেলেকে মারপিট ও গালিগালাজ অভিযোগ, ১৬/৪/২০০৯ সালে কৃপ্রস্তাব ও ৫০০০/- টাকা চিটিংয়ের অভিযোগ, ১০/৩/২০১০ সালে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, ০৪/১১/২০১০ সভাপতির সহিত অসৌজন্য আচরণের জন্য তিরস্কার, ১৬/২/২০১২ সালে ক্ষমা প্রার্থনা, ৫/৪/ ২০১৪ সালে বই খাতা চুরি ও অন্যান্য অভিযোগ, ২৭/১১/২০১৪ সালে পাঠদানে শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ২৪/৫/২০১৭ সালে খন্ডকালীন শিক্ষকগণের অভিযোগ, ৬/৬/২০১৮ সালে বিদ্যালয় সংক্রান্ত অভিযোগ, ১/১০/২০১৮ সালে সাময়িক বরখাস্ত, ২৮/৩/২০১০ সালে নন জুটিশিয়াল ১৫০/- স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার নামা ও স্বীকারোক্তি পত্র স্বহস্তে প্রদান। স্টুডেন্টস কেবিনেট সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল।

এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে অসৎ আচারণ ছাত্রীদের অশ্লালীন অঙ্গভঙ্গি। কিভাবে বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায় এবং কতিপয় লোককে নিয়ে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এছাড়া বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনাও তার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি সব সময় শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষকে কথায় কথায় দেখে নিবেন বলে হুমকি দেয়। তার এসব কর্মের কারণে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষকরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বারবার সাময়িক বরখাস্ত হলেও অদৃশ্য কারণে তাকে বহাল করা হয়। আর এ কারণে তিনি কোন কিছুই তোয়াক্কা করেন না। বর্তমানে তিনি বিদ্যালয়ের সাথে এবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কঠিন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেন না তিনি। তাকে সব সময় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বদনাম ছড়াচ্ছেন এবং ব্যস্ত করে রেখেছেন। আমিনুর তার মনোনীত কিছু লোক তৈরি করে অর্থ ব্যয় করে এসব কাজ করছেন। তিনি বিদ্যালয়ের কোন নিয়ম কানুন মানছেন না। তিনি নিজেকে বড় মাপের কর্তা মনে করেন। তার বাড়ী বাইরে হলেও এখানে বাসা নির্মাণ করে অনেক সম্পদ করেছেন। শিক্ষকর্তা ছাড়া তার অন্য কোন আয় না থাকলেও তিনি অনেক সম্পদ করে দাপটের সহিত বিলাসীতাভাবে জীবনযাপন করছেন।

তিনি বিদ্যালয়ে কেবিনেট শিক্ষার্থীদের সহিত বিচ্চিন্নভাবে উস্কানীমূলক বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছেন। সর্বশেষ তিনি একজন শিক্ষক হওয়ার পরও একজন ছাত্রীর সাথে প্রেম করে ফেসবুকে অশ্লালীন কথা বার্তা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে আদান প্রদান করছেন। এছাড়া তার গোপঙ্গানের ছবি তুলে ম্যাসেঞ্জারে আদান প্রদান করেছেন। এছাড়া তিনি ওই ছাত্রীকে বিবস্ত্র হয়ে ছবি তুলে ম্যাসেঞ্জারে পাঠাতে বলেছেন। কয়েকদিন আগে ফেসবুকের ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায় এবং অনেকের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে। ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে তুল কালাম ঘটনা ঘটে এলাকায়।

অনেকের অভিযোগ তার অন্য কোন গোপন অবৈধ আয় রয়েছে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত। জামায়াতের সাথে রয়েছেন তার গোপন আঁতাত। সচেতন মহলের অভিযোগ তার এসব কর্মকান্ড ক্ষতিয়ে দেখলে বেড়িয় আসবে আরো অনেক ঘটনা। এলাকাবাসী জানান, সাধারণ মানুষ একটু কিছু করলেই তার বিচার, মামলা জেল জরিমানা হয়। কিন্তু আমিনুরের বেলায় ভিন্ন। তিনি অনেক অপকর্ম করলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা হয়নি। তাই সাধারণ মানুষসহ অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার এসব অপকর্ম তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন। সেই সাথে তাকে বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতির দাবিও জানান তারা। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুরের কথা বলার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের কাছে এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

বাংলাপ্রেস/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি