সৈয়দপুরে বিয়ের প্রলোভনে গৃহকর্মী অন্তঃসত্ত্বা ধর্ষক আটক

এম আর আলী টুটুল, সৈয়দপুর নীলফামারী প্রতিনিধিঃ বিয়ের প্রলোভনে শেফালী আক্তার রিয়া (২২) নামের এক গৃহকমীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষন করা হয়েছে। পরে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে বিয়ের দাবি জানালে ধর্ষক তাকে বিভিন্ন স্থানে রেখে হত্যার চেষ্টা করেছে ।
এমন অভিযোগে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে সৈয়দপুর থানা পুলিশ আফজাল হোসেন (বিপ্লব)(৪৯) নামের ওই ধর্ষককে গ্রেফতার করে নীলফামারী হাজতে প্রেরন করেছেন।
রিয়ার অভিভাবক ও সৈয়দপুর থানা পুলিশ সুত্রে মতে, শহরের পৌর ১১ নং ওয়ার্ডের নতুন বাবু পাড়ার তালেব কোয়াটার সংলগ্ন বাসিন্দা মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে আফজাল হোসেন বিপ্লব ঢাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন গাজিপুর জেলার কাপাসিয়া থানার আঃ রশিদের মেয়ে শেফালি আক্তার রিয়া।
ওই বাড়িতে বিপ্লবের পরিবারের অন্যন্য সদস্যরাও বসবাস করতেন। ৩ বছর আগে বিপ্লবের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর নিজের চাহিদা মেটাতে গৃহকমী রিয়াকে প্রলোভন দেখিয়ে ভোগ করেন। এভাবে বিপ্লব তার লালসা মেটান। তবে এরই মধ্যে রিয়া ৪ মাসের অন্তসত্তা হয়ে পড়েন। খবর জানার পর বিপ্লব রিয়াকে নিয়ে সৈয়দপুর শহরের বাড়িতে নিয়ে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার পরামর্শ দেয়। এতে রিয়া রাজি না হলে নিজেকে বাচাতে বিপ্লব বাড়ির পাশ্বে আত্বীয়ের বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখেন। সপ্তাহ খানেক আগে মেয়েটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে শহরের রেলওয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বাড়িতে আটকিয়ে রাখা হয়। এলাকাবাসি সেখান থেকে উদ্ধার করে বিপ্লবের ওই আত্বীয়ের হাতে তুলে দেয়।
৫ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টায় সৈয়দপুর রেল ষ্টেশনের আই ডাবলু অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে কয়েকজন পথচারি গায়ে কেরোসিন মাখা ও হাত, পা এবং মুখ বাধা অবস্থায় রিয়াকে উদ্ধার থানা-পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়।
সৈয়দপুর থানা পুলিশ ওই রাতেই অসুস্থ্য রিয়াকে সৈয়দপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। একদিন পরেই সেখান থেকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ওই রাতেই অন্তঃসত্ত্বা শেফালি আক্তার রিয়া বাদি হয়ে সৈয়দপুর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। সৈয়দপুর থানার অফিসার্স ইনচার্র্জ আবুল হাসনাত বলেন, ওই সকল ধারায় আটক বিপ্লবকে নীলফামারী হাজতে পাঠানো হয়েছে এবং বাদী প্রশাসনিক হেফাজতে নীলফামারী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, রিয়ার দরিদ্র পিতা আঃ রশিদ জানান, আমার মেয়েকে হত্যার জন্য পরপর দুই দিন চেষ্টা করা হয়েছে। তাই মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এমন প্রশ্নে জবাবে নীলফামারী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাশেদুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এখানে কোন সমস্যা নোই। পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে সুক্ষ রিপোট দেয়া হবে।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি