১৭ জুন ২০২৬

শিশুকে ধর্ষণের পর নদে ফেলে হত্যা, ২ তরুণের স্বীকারোক্তি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
শিশুকে ধর্ষণের পর নদে ফেলে হত্যা, ২ তরুণের স্বীকারোক্তি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কংস নদে ফেলে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার কাছে তারা এই জবানবন্দি দেয়।

স্বীকারোক্তি দেয়া দুই তরুণ হলো: ধোবাউড়া উপজেলার টাঙ্গাটি গ্রামের আরিফ মিয়া (১৯) ও রাকিব মিয়া (২১)। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, শিশুটিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এই দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে তোলা হয়। তারা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে রাতে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেল ৫টার দিকে নিজ বাড়ির পাশ থেকে ওই শিশু নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদের বাঁকে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করেন। রাতে দাফনের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শরীরে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেয়ে দাফন স্থগিত রেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে শিশুটি স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফিরছিল। পথে চার তরুণের সঙ্গে তার দেখা হয়। মাগরিবের আজানের ঠিক আগমুহূর্তে কদম ফুল দেয়ার কথা বলে তারা শিশুটিকে কৌশলে কংস নদের পাড়ে জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে জীবিত অবস্থায় কংস নদে ফেলে দেয়া হয়। এতে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও স্থানীয় চার তরুণকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ ও রাকিবকে আটক করে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে ধোবাউড়া ও পূর্বধলা সীমান্ত এলাকার এক স্বজনের বাড়ি থেকে মো. সাঈম মিয়া (১৯) নামের আরেক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।

ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান বলেন, আটক চারজনের মধ্যে আরিফ ও রাকিবকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। বাকি দুজন–মারুফ ও সাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বুধবার (১৭ জুন) তাদেরও এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। 

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি