শেখ হাসিনা ও তাঁর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এমপি ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের কারাদণ্ড
শেখ হাসিনা এবং তাঁর ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক
আবু সাবেত: বাংলাদেশের একটি আদালত দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ভাগ্নি, যুক্তরাজ্যের শাসক লেবার পার্টির সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক–কে কারাদণ্ড দিয়েছেন।
সোমবার ঢাকার আদালত রায়ে শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। রাজধানীর কাছে একটি সরকারি জমি প্রকল্পে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য অবৈধভাবে সম্পত্তি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দেশের দুর্নীতি দমন সংস্থার মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
২০২৪ সালে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। ওই আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যেখানে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ জজ আদালত–৪–এর বিচারক মোহাম্মদ রাবিউল আলম একই মামলায় টিউলিপ সিদ্দিককে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি জমি দখলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই মামলায় তাঁর ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। টিউলিপ সিদ্দিকের ভাইবোন আজমিনা ও রাদওয়ান মুজিবকেও প্রত্যেকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লন্ডনের পুলিশকে 'পলাতক টিউলিপ এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য অভিযুক্ত সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর' করার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগেও একই ধরনের সরকারি জমি প্রকল্প–সংক্রান্ত মামলায় শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিক দণ্ডিত হয়েছিলেন। সে সময় উভয়েই রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর খালা শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে নিজের মা শেখ রেহানা এবং দুই ভাইবোনকে ঢাকার ওই সরকারি প্রকল্পে জমি পাইয়ে দিতে সহায়তা করেন।
তবে টিউলিপ সিদ্দিক অভিযোগগুলোকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ প্রকল্প নিয়ে আগে আরও চারটি মামলায় দণ্ড হয়েছে। সেসব মামলায় তাঁকে মোট ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর সন্তান সজীব ওয়াজেদ ও সাইমা ওয়াজেদকে পাঁচ বছর করে এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই সর্বশেষ রায়গুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেখ হাসিনার সাবেক শাসক দল **আওয়ামী লীগ**কে এই নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি