২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাড়ির মামলায় তানজিন তিশার জামিন বাড়ল

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ এএম
শাড়ির মামলায় তানজিন তিশার জামিন বাড়ল


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের শাড়ি নিয়ে এই মামলা হয়।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন বর্ধিতের আবেদন করেন তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন বর্ধিত করার আদেশ দেন।

তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক গণমাধ্যমকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আজ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে তানজিন তিশা আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। পরে ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আদালতে পৌঁছান তিনি। এর পাঁচ মিনিট পর শুনানি শুরু হয়।

শুনানির শুরুতে তানজিন তিশা বেঞ্চে বসে ছিলেন। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর কথা বললে তিনি সেখানে গিয়ে দাঁড়ান।

তানজিন তিশার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ‘আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। তাঁর জামিন বর্ধিতের আবেদন করছি।’

এর বিরোধিতা করে বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল বলেন, ‘এ আসামি জামিন নেওয়ার পর জামিনের অপব্যবহার করেছেন। জামিন পেয়েই আসামি তাঁর ভেরিফায়েড পেজ থেকে আইনজীবী ও বাদী সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনাবোধ নেই।’

এ সময় বিচারক আইনজীবীকে বলেন, ‘অভিযোগ থাকলে পিটিশন আকারে দেন।’

জহিরুল হাসান মুকুল তখন বলেন, ‘চার্জের জন্য আছে। চার্জ হয়ে যাক। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে।’

পরে তানজিন তিশার আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, ‘ডিসচার্জের যথেষ্ট গ্রাউন্ড আছে। আমাদের সময় দিন।’

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তানজিন তিশার জামিন বর্ধিত করার আদেশ দেন। তবে মামলার পরবর্তী তারিখ এখনো আদালত থেকে জানানো হয়নি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনলাইন–ভিত্তিক ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা। কিন্তু পরে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ ঘটনায় পেজটির প্রশাসক আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালতে মামলা করেন।

মামলার পর আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে ডিবি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে আদালত গত ১২ জুলাই তা আমলে নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং ১৩ আগস্ট তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তানজিন তিশা। পরে মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে পাঠানো হয়।

তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানজিন তিশা দাবি করেছিলেন, শাড়িটি তাঁকে ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

‘আমি আইনের প্রতি বিশ্বাসী’

আজ আদালতের শুনানি শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তানজিন তিশা। তিনি বলেন, ‘অনেকের মনে হতে পারে, আমি আবার আদালতে এলাম কেন? কারণ হলো, আমি আইনের প্রতি বিশ্বাস করি। আইনের প্রতি আমার যে বিশ্বাস আছে, সেই বিশ্বাস থেকে আমি আবারও আসছি। আমার যদি আরও পাঁচবার আসা লাগে, আমি আবারও আসব।’

তিশা বলেন, ‘দিন শেষে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা এ দেশে বাঁচতে চাই এবং সত্যতা নিয়ে বাঁচতে চাই। কেউ যদি আইনের অপব্যবহার করে, আমি সেটা কোনোভাবে সাপোর্ট করি না।’

মামলার বাদীপক্ষ সম্পর্কে তিশা বলেন, ‘তার দুই বোন (মামলার বাদী) এবং এটা আপনারা হয়তো জানেন না, তারা একটা সিন্ডিকেট।’

তানজিন তিশা আরও বলেন, তিনি এত জটিল করে চিন্তা করতে পারেন না। তিনি শুধু জানেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করা উচিত নয়। আর তাঁর ক্ষমতা হলো দর্শকের ভালোবাসা।
বিপি/কেজে

 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি