৮ মে ২০২৬

সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা : ঢাবিতে পুলিশের হামলা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা : ঢাবিতে পুলিশের হামলা
  বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই (বুধবার) চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে নিহতদের মাগফিরাত কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে গায়েবানা জানাজা আদায় করেন আন্দোলনকারীরা। এ দিন ভোরে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তাড়িয়ে দেন এবং ক্যাম্পাসকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেয়। সরকার কোম্পানিগুলোকে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা : কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রাতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়। এরপর বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সভার পর শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ও বেঁধে দেয়া হয়। শুরুতে আন্দোলনকারীদের অনেকে নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসে অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। তবে সকাল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকে ক্যাম্পাস ছাড়তে থাকেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ হলই প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল ছাড়ার নোটিশ প্রত্যাহারে আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরতরা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে ভিসিকে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে রথ্যাব, পুলিশ ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে চার ঘণ্টা পর তাকে মুক্ত করে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হল ত্যাগের নির্দেশের পর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে প্রশাসন জানায়, তারা কাউকে জোর করবে না। কেউ হলে থাকতে চাইলে থাকতে পারবে। এ দিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কে থাকা ঢাবির শিক্ষকরা। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন তারা। ঢাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়। এর আগে সকাল ১০টায় ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি সভা হয়। সভায় বেশ কিছু সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রত্যাখ্যান শিক্ষক নেটওয়ার্কের : ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কে থাকা ঢাবি শিক্ষকরা। এর আগে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ থেকে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং নিহতের ঘটনার বিচার দাবি করেন। সমাবেশ শুরুর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পুলিশের হাতে আটক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি এবং দর্শন বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। এ দিন আন্দোলনে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. তানজীমউদ্দিন খান, বেসরকারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক নোভা আহমেদ প্রমুখ। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর এ রকম আঘাত আসছে, আমরা তো চুপ করে থাকতে পারি না। শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়েরা তো আমাদের কাছেই ছেলেমেয়েদের রেখেছে। এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় তারা থাকবে- এটা তো আমাদেরও দায়। অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, যদিও আমরা দেরি করে ফেলেছি, আরেকটু আগে করতে পারলে ভালো হতো। সংগঠিত হতেও আমাদের কিছুটা সময় লেগেছে। এ দিন ভোরে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তাড়িয়ে দেয় এবং ক্যাম্পাসকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেয়। সরকার কোম্পানিগুলোকে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। ১৭ জুলাই পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিল এবং দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টিধাওয়ার ঘটনা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ দিন আন্দোলকারীরা রাজধানীতে মেয়র হানিফ উড়াল সড়কের কাজলা অংশের টোল প্লাজায় আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সড়কের শনিরআখড়া ও কাজলার মধ্যবর্তী স্থানে অন্তত ২০টি জায়গায় মধ্যরাত পর্যন্ত আগুন জ্বলে। ঢাবিতে কফিন মিছিলে পুলিশের হামলা : ১৬ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারা দেশে অন্তত ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে দু’জন রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় এবং চট্টগ্রামে ছাত্রদলের নেতা ওয়াসিম আকরামসহ আরো তিনজন নিহত হন। নিহতদের মাগফিরাত কামনায় ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গায়েবানা জানাজার শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে জানাজা পড়েন আন্দোলনকারীরা। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা প্রতীকী কফিন ধরে শপথ করেন এবং সমস্বরে বলেন, ‘এই আন্দোলন আমরা বৃথা যেতে দেবো না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন থেকে সরে যাবো না।’ গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোনকারীরা টিএসসি অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সেøাগান দেন। এ সময়ে সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, পুলিশ ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি প্রবেশ পথে শিক্ষার্থীদের আটকে দিয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।’ এ ছাড়া এ দিন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গায়েবানা জানাজায় পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বাধা দেয় ও বেশ কয়েক জায়গায় হামলা চালায়। [বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি টিডি
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি