সান ফ্রান্সিসকোতে আইসিইর হাতে আটক মা ও দুই শিশুকে খুঁজে পাচ্ছেন না আইনজীবীরা
আইসিইর হাতে আটক মা ও দুই শিশু
নোমান সাবিত: সান ফ্রান্সিসকোতে এই সপ্তাহে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বে এরিয়ার এক মা ও তার দুই ছোট সন্তানের সন্ধানে বৃহস্পতিবার হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন অভিবাসন আইনজীবীরা। শিশুদের একজন গুরুতর প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে।
অভিবাসন আইনজীবী নিকোলাস ডে ব্রেমেকারের মতে, লেসলি রদ্রিগেজ গুতিয়েরেজকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সান ফ্রান্সিসকোর তেহামা স্ট্রিটে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অফিসে নিয়মিত চেক-ইনে হাজির হওয়ার পর আটক করা হয়। ডে ব্রেমেকার সেন্ট্রো লিগ্যাল দে লা রাজা-র একজন আইনজীবী।
কলম্বিয়ার আশ্রয়প্রার্থী গুতিয়েরেজকে গ্রেপ্তারের সময় তার সঙ্গে ছিল তার দুই সন্তান যাদের বয়স ৫ ও ৭ বছর। ডে ব্রেমেকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ বছর বয়সী ছেলেটি বধির এবং আটক হওয়ার সময় তার শ্রবণযন্ত্র (হিয়ারিং এইড) সঙ্গে ছিল না।
ডে ব্রেমেকার বলেন, এই শিশুটিকে এমন প্রয়োজনীয় সহায়ক যন্ত্র ছাড়াই দেশজুড়ে ঘোরানো হচ্ছে, যা তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আইনজীবীরা এখনও গুতিয়েরেজ ও তার সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বা তাদের অবস্থান নির্ণয় করতে পারেননি। ডে ব্রেমেকারের অভিযোগ, আইসিই কর্মকর্তারা আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য দিয়েছেন—কোন আটককেন্দ্রে তাকে নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে।
ডে ব্রেমেকারের সন্দেহ, আইনজীবীরা যাতে হেবিয়াস করপাস আবেদন করতে না পারেন, সেজন্য আইসিই দ্রুত গুতিয়েরেজকে ক্যালিফোর্নিয়ার বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেআইনি বা ইচ্ছাকৃত আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার আবেদন করা যায়। তবে এমন আবেদন করতে হলে আটক ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানা জরুরি।
গুতিয়েরেজ কোথায় আছেন বা কেন তাকে আটক করা হয়েছে—এ বিষয়ে আইসিইর মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আইসিইর অনলাইন বন্দি অনুসন্ধান ব্যবস্থাতেও গুতিয়েরেজের নাম দেখা যায়নি।
গুতিয়েরেজের পরিবারের এক সদস্য ক্রনিকলকে জানান, বৃহস্পতিবার গুতিয়েরেজ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছেন যে তাকে এবং তার সন্তানদের কলম্বিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। তবে আইনজীবীরা এ বিষয়ে আগে কিছুই জানতেন না।
ডে ব্রেমেকার বলেন, এই বিভ্রান্তি, ভুল তথ্য এবং বিভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন গল্প বলা সব মিলিয়ে এটি অন্তত বিশৃঙ্খল, আর হয়তো ইচ্ছাকৃতও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তার একটি গুরুতর প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে—এই বিষয়টি একাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি সাত বছরের শিশুকে বহিষ্কার না করার শক্তিশালী কারণ হওয়া উচিত।
এদিকে, ৭ বছর বয়সী শিশুটির স্কুলের কর্মকর্তারা গুতিয়েরেজ ও তার পরিবারের মুক্তির দাবিতে সমর্থনের চিঠি দিয়েছেন, যা তার অভিবাসন আদালতের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ক্যালিফোর্নিয়া স্কুল ফর দ্য ডেফ (ফ্রেমন্ট)-এর শিক্ষক লিজা উইলিয়ামস লিখেছেন, আমি বিনীত ও জরুরি অনুরোধ জানাচ্ছি যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যেন এই শিশুটির শিক্ষা ও মানবিক পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করেন। এই শিশুটির জায়গা এমন একটি শ্রেণিকক্ষে, যেখানে সে বিকশিত হতে, যোগাযোগ করতে এবং বেড়ে উঠতে পারে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি