হোয়াইট হাউসের সমর্থনপুষ্ট
রাস্তার ধর্মোপদেশ দেওয়ার পর ইসলামবিরোধী প্রচারক গ্রেপ্তার
খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারক দিয়া মুডলি
আবু সাবেত: হোয়াইট হাউসের সমর্থনপুষ্ট এক খ্রিস্টান প্রচারক ব্রিস্টলে রাস্তার ধর্মোপদেশ দেওয়ার পর ‘জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এমন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইভানজেলিক্যাল পাস্টর ৫৮ বছর বয়সী দিয়া মুডলিকে গত বছরের নভেম্বরে প্রায় আট ঘণ্টা আটক রাখা হয়েছিল 'ইসলাম ও ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ নিয়ে মন্তব্য করার' কারণে।
চার সন্তানের জনক মুডলি যুক্তরাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন পেয়েছেন।
বিশ্বাসভিত্তিক আইনি সংস্থা অ্যালায়েন্স ডিফেন্ডিং ফ্রিডমের ব্রিটিশ শাখা এডিএফ ইউকের প্রতিনিধিত্বে থাকা মুডলি গত চার বছরে অ্যাভন অ্যান্ড সমারসেট পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার আইনগত পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছেন।
তিনি বলেন, 'আমি একজন আইনমান্য নাগরিক। জনসমক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে আমার খ্রিস্টান মত প্রকাশ করার কারণে পুলিশ আমাকে এত কঠোর ও বারবার অপরাধীর মতো আচরণ করেছে—এটি অবাস্তব মনে হয়।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'দুঃখজনকভাবে আমার বিশ্বাস, পুলিশ আমাকে—একজন খ্রিস্টান পাস্টরকে—সহজ লক্ষ্যবস্তু মনে করে এবং বৈধ বক্তব্যে কেউ আঘাত পেতে পারে এই আশঙ্কায় ভীত। এটি দ্বিস্তরীয় পুলিশিংয়ের উদাহরণ।'
গত ২২ নভেম্বর শনিবার ব্রিস্টলের ব্রডমিড এলাকায় তাকে প্রথমে মারধরের অভিযোগে হামলা এবং জাতিগত/ধর্মীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলেও শর্ত হিসেবে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
জানুয়ারিতে পুলিশ তার বাসায় গিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদও করে। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের খবর জানিয়ে তিনি বলেন, এটি তার ওপর 'গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন' অভিজ্ঞতা হয়েছে।
এডিএফ ইউকের মতে, রাস্তার ধর্মোপদেশ ঘিরে এটি মুডলির দ্বিতীয় গ্রেপ্তার। ২০২৪ সালের মার্চে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে প্রচারের সময় ইসলাম নিয়ে মন্তব্য এবং যৌনতা দ্বৈত—এমন বক্তব্য দেওয়ার পরও তিনি পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়েন।
এর আগে ২০২১ সালে তাকে খ্রিস্টধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করা এবং পুলিশের অনুমতি ছাড়া ধর্মোপদেশ দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুডলি বলেন, লন্ডনে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাঁচ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি 'সন্তুষ্ট' হয়েছেন।
তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্যে আমরা বহু বছর ধরে, বিশেষ করে গত এক-দুই বছরে, এই বিষয়ে আওয়াজ তুলে আসছি। আমাদের অবস্থান হলো—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকটে রয়েছে।'
‘ডি ফ্যাক্টো ধর্মনিন্দা আইন’ অভিযোগ
এডিএফ ইন্টারন্যাশনালের আইনজীবী জেরেমিয়া ইগুন্নুবোলে বলেন, “ইসলাম ও ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ নিয়ে শান্তিপূর্ণ মন্তব্য করার কারণে পাস্টর দিয়ার গ্রেপ্তার দেখায় যে, যুক্তরাজ্যে জনশৃঙ্খলা আইন ব্যবহার করে কার্যত ধর্মনিন্দা আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং অ্যাভন অ্যান্ড সমারসেট পুলিশের দীর্ঘদিনের আচরণের অংশ, যেখানে জনসমক্ষে শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের জন্য পাস্টর দিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ তদন্তে ব্যর্থতা দেখা গেছে।
ইগুন্নুবোলে আরও বলেন, 'মতপ্রকাশের অধিকার শক্তভাবে সুরক্ষিত করতে পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নের প্রয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে। সরকার ‘অ্যান্টি-মুসলিম হেট্রেড’-এর বিস্তৃত ও অস্পষ্ট সংজ্ঞা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় থাকায় পাস্টর দিয়ার মামলাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা ইসলামসংক্রান্ত বৈধ বক্তব্যও সেন্সর করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।'
অ্যাভন অ্যান্ড সমারসেট পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, ২২ নভেম্বর শনিবার বিকেল সাড়ে ২টার দিকে ব্রিস্টলের ব্রডমিড এলাকায় ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগে হামলা এবং জাতিগত/ধর্মীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় এবং ব্রডমিডসহ ব্রিস্টল শহরের কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ না করার শর্ত আরোপ করা হয়। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এক তদারকি কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে এসব শর্ত তুলে নেওয়া হয়।
পুলিশের বিরুদ্ধে মুডলিকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ বিষয়ে বাহিনীটির কাছে অতিরিক্ত মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি