প্রধান শিক্ষক কে ? খায়রুল আলম না খাইরুল ইসলাম !
রাব্বী আহমেদ, মেহেরপুর থেকে : মেহরপুরে গাংনীর উপজেলার সাহারবাটি ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে খাতা কলমে প্রধান শিক্ষক খাইরুল আলম থাকলেও দীর্ঘদিন যাবৎ দায়িত্ব পালন করছেন খাইরুল ইসলাম নামের অপর একজন। একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন যাবত দু’জন প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করায় নানা অনিয়মের পাশাপাশি পরিবেশ হয়ে উঠেছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা।
প্রায় ১০ বছর ধরে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আসল প্রধান শিক্ষক খাইরুল আলমকে অসুস্থ দেখিয়ে খাইরুল ইসলাম নামের অপর শিক্ষক অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। স্থানীয় অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন, আসলে প্রধান শিক্ষক কে? খায়রুল আলম না খাইরুল ইসলাম!
জানা গেছে, সাহারবাটি ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে খায়রুল আলম নামের একজন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিগত ২০০৯ সালে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল গণি প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলমকে অযোগ্য এবং অসুস্থ দেখিয়ে একই বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। ১০ বছর ধরে অসুস্থ শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থেকে ক্লাস নিলেও অজ্ঞাত কারণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকই মূল দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও আসল প্রধান শিক্ষকের নামে যৌথ ব্যাংক হিসাব নং খোলার নিয়ম এবং প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতনভাতা উত্তোলন হবার কথা থাকলেও এ নিয়ম যেন কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খাইরুল ইসলামের স্বাক্ষরে বিল বেতন তোলা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের অডিটে এরকম অনিয়ম ধরা পড়লেও অজ্ঞাত কারণে অদ্যাবধি শিক্ষা অফিস কোন ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত আইনানুযায়ী একজন সভাপতি দীর্ঘদিন যাবৎ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। অথচ আব্দুল গণি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের অস্বচ্ছতা, শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা নিম্নমুখী, ফলাফল বিপর্যয়সহ নানা অনিয়ম বাসা বেধেঁছে বিদ্যালয়টি। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কোন বাধ্যবাধকতা না থাকায় শিক্ষক-ছাত্রীর মধ্যে অনৈতিক কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বার বার। এবছর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি আশানুরুপ হয়নি বলেও জানান অভিভাবকরা।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খাইরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্কুল সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখানে অনিয়ম দুর্নীতি হয় না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর হাবিবুল বাসার জানান, আমি জানি প্রধান শিক্ষক অসুস্থ। তিনি যদি নিয়মিত স্কুলে যান এবং হাজিরা বহিতে স্বাক্ষর করেন তাহলে সেটি অনিয়ম হচ্ছে। আমি বিষয়টি দেখবো।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি