পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টায় সহিংসতা, নিহত ২২, আহত ১২০
পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচি বন্দরনগরী ও উত্তরাঞ্চলে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রো-ইরান বিক্ষোভকারীরা করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টা চালায়। উত্তরাঞ্চলে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘ ও সরকারি কার্যালয়েও হামলা করে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। করাচির পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেখানে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খামেনির “শাহাদাতে গভীর শোক” প্রকাশ করেন এবং ইরানের প্রতি সমবেদনা জানান। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “শোকের এই মুহূর্তে পাকিস্তান ইরানি জাতির পাশে রয়েছে এবং তাদের ক্ষতিতে শামিল।”
করাচির প্রধান সরকারি হাসপাতালের পুলিশ সার্জন সুম্মাইয়া সাইয়েদ তারিক জানান, ছয়টি মরদেহ ও একাধিক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে গুরুতর আহত চারজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০-এ দাঁড়ায়।
উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে হাজারো শিয়া বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কার্যালয়ে হামলা চালালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি আহত হন বলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আসগর আলী জানান।
সরকারি মুখপাত্র শাবির মির বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সব কর্মী নিরাপদ রয়েছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের একাধিক সংঘর্ষ হয়, স্থানীয় একটি দাতব্য সংস্থার কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং পুলিশ কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেনা মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক্সে জানায়, করাচি ও লাহোরে মার্কিন কনস্যুলেট ঘিরে চলমান বিক্ষোভ এবং ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস ও পেশোয়ার কনস্যুলেটে সম্ভাব্য বিক্ষোভের আহ্বান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মার্কিন নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদ অনুসরণ, সতর্ক থাকা, বড় জমায়েত এড়িয়ে চলা এবং সরকারের সঙ্গে নিবন্ধন হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কনস্যুলেটের জানালা ভাঙচুর
দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী ও পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচিতে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ইরফান বালুচ জানান, বিক্ষোভকারীরা অল্প সময়ের জন্য মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে হামলা চালায়, তবে পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
তিনি কনস্যুলেট ভবনে আগুন ধরানোর খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিক্ষোভকারীরা কাছের একটি পুলিশ পোস্টে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কনস্যুলেটের জানালা ভাঙচুর করে। নিরাপত্তা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কনস্যুলেট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কয়েক ডজন শিয়া বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়ে অন্যদের যোগ দিতে আহ্বান জানাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন কনস্যুলেটের একটি জানালায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে নিরাপত্তা বাহিনী এসে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে হাসপাতাল অবরুদ্ধকালে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৯ জন গ্রেপ্তার
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি